প্রতিমন্ত্রী টুকুর বক্তব্য: বিএনপির জনগণের প্রতি অবস্থান ও উন্নয়নের আহ্বান
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ও অনুভূতির বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার নজির থাকলেও বিএনপি সবসময় জনগণের সেন্টিমেন্ট ধারণ করে পথ চলেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাভারের বিসিএস লাইভস্টক একাডেমি প্রাঙ্গণে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) ক্যাডার কর্মকর্তাদের পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, বিএনপি কখনোই দেশের মানুষের অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবসহ মানুষের অধিকার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনগুলোতেও বিএনপির ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণআন্দোলনেও বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে।
দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করেছে, যা দলের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পকারখানার বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় দেশের নদ-নদী দূষিত হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এ প্রেক্ষাপটে কৃষিভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন গড়ে তুলতে পারলে একদিকে যেমন অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে। তাই কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ হলেই দেশ হবে উন্নত। তিনি বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়ন ও টেকসই শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা
নবনিযুক্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের কর্মকর্তা। কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়—রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই আপনাদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি কর্মকর্তাদের উপজেলাসহ মাঠপর্যায়ে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, উন্নত ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ প্রশিক্ষণার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানটি নতুন কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
