কক্সবাজারে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের যাত্রা শুরু
কক্সবাজার-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চলে একটি নতুন উপজেলা, একটি পৌরসভা এবং তিনটি ইউনিয়ন গঠনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রাপ্তির পর এই প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শামীম আল ইমরান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় কার্যক্রমের সূচনা
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শামীম আল ইমরান স্পষ্ট করে বলেন, "রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটার হাতে পাওয়ার পরই আমরা এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।" প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়া উপজেলা থেকে আলাদা করে পেকুয়ার মাঝামাঝি অঞ্চলে 'মাতামুহুরী' নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হবে। এছাড়া, পেকুয়া সদর ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হবে এবং উত্তর হারবাং, পঁহরচাদা ও মালুমঘাট নামে তিনটি নতুন ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হলে তিনি এই অঞ্চলে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলেছে সরকার। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, মাতামুহুরী নদীর তীর ঘেঁষা চকরিয়া উপজেলা জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা হিসেবে পরিচিত। ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলাটি ১৯৯৩ সালে থানা এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। আদমশুমারির তথ্য অনুসারে, চকরিয়ার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার ২৭৪ জন।
অন্যদিকে, ২০০২ সালের ২৩ এপ্রিল চকরিয়া থেকে ৭টি ইউনিয়ন আলাদা করে পেকুয়া উপজেলা গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে পেকুয়ার জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৭ জন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই দুই বৃহৎ উপজেলার জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান করতে সরকারি দপ্তরগুলো প্রায়শই হিমশিম খায়। অপরদিকে, সাধারণ মানুষকেও নানান ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে।
দীর্ঘদিনের দাবি ও সাম্প্রতিক উন্নয়ন
এই পরিস্থিতিতে চকরিয়া উপজেলাকে ভেঙে 'মাতামুহুরী' নামে আলাদা একটি উপজেলা গঠনের দাবি বহু বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে উত্থাপিত হচ্ছিল। পেকুয়া সদর ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তরের খবরও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত শনিবার নতুন উপজেলা ও ইউনিয়ন গঠনের প্রাথমিক কার্যক্রম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, নতুন এই প্রশাসনিক ইউনিটগুলো গঠিত হলে সাধারণ মানুষকে আর দূর-দূরান্তে গিয়ে সেবা নিতে হবে না। এতে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। বৈঠকে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন উপ-পরিচালকের উপস্থিতিতে এই সভাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় মাতামুহুরী উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।"
পরবর্তী পদক্ষেপ ও লক্ষ্য
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, মাতামুহুরীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা এবং চকরিয়ায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, পরবর্তী পদক্ষেপে যেন কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতা তৈরি না হয়। আমরা স্থানীয় জনগণের সেবা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কক্সবাজার অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো আরও সুসংগঠিত হবে এবং স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নতুন উপজেলা ও ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এলাকার জনগণ দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পাবেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
