মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর নিজ এলাকায় প্রত্যাবর্তন ও অপরাধ দমনের বার্তা
সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরেছেন মাগুরা–২ আসনের সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী। আজ শুক্রবার সকালে ফরিদপুর সার্কিট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অপরাধ দমনে দলীয় পরিচয় বিবেচ্য না হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিকটি তুলে ধরেন।
মোটর শোভাযাত্রায় স্বাগত জানানো
আজ সকালে ফরিদপুরের সীমান্তবর্তী কামারখালী গড়াই সেতু থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলীয় নেতা–কর্মীরা। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। পরে মাগুরা সার্কিট হাউসে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
অপরাধ দমনে সরকারের অবস্থান
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, 'অনেকে চাঁদাবাজি করে বিএনপির নাম দেয়। আবার অনেকে মাদক ব্যবসা করছে, তারা বিএনপি না। অপরাধ যে করবে, চাঁদাবাজি যে করবে—সে যে দলই হোক, সরকারি কর্মচারী হোক বা অন্য কেউ—আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধের বিচার হবে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে নয়; বরং সব ধরনের অপরাধ আইনের আওতায় আনা হবে।
গত ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা ও বিএনপির ভূমিকা
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গত ১৬ বছরে নানা ধরনের অপরাধ ও অপকর্মের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'বিএনপির বহু নেতা–কর্মী শত শত মামলায় আসামি হয়েছেন, জেল খেটেছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিনা কারণে বাড়িতে অস্ত্র ঢুকিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগও ছিল।' তবে, তিনি গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির অবদানের কথাও স্বীকার করেন, উল্লেখ করেন যে ১৮ বছর ধরে বিএনপি ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন প্রসঙ্গ
জুলাই-আগস্টের বিপ্লবী অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, 'জুলাই-আগস্টের বিপ্লবী অভ্যুত্থান হঠাৎ আসেনি। এর পেছনে গভীর প্রেক্ষাপট আছে। সেই গভীরতাটা বুঝতে হবে।' তাঁর এই মন্তব্য ঐতিহাসিক ঘটনাবলির জটিলতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
সরকারের অপরাধ দমন নীতি
নিতাই রায় চৌধুরী সরকারের অপরাধ দমন নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, 'বিএনপির কেউ চাঁদাবাজি করলে আমরা খুঁজব, আর অন্যরা করলে দেখব না—এটা হবে না। সরকারি কর্মচারী ঘুষ খাক বা সাধারণ মানুষ, অপরাধ করলে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' এই বক্তব্যে সরকারের নিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি ফুটে উঠেছে।
মন্ত্রীর এই সফরটি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধ দমন নীতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, যা জনগণের মধ্যে আশা ও আস্থা সৃষ্টি করতে পারে।
