কক্সবাজারে শিশু হত্যায় ইসলামী আন্দোলনের তীব্র নিন্দা ও বিএনপি এমপির পদত্যাগ দাবি
কক্সবাজার-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মাদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের গাড়িবহরের চাপায় নুরানী মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী খালিদ বিন ওয়ালিদের মৃত্যুতে গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন।
দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড: ইসলামী আন্দোলনের কঠোর বক্তব্য
গাজী আতাউর রহমান তার বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বাংলাদেশের এমপি-মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতারা দাপট ও কর্তৃত্ব দেখানোর জন্য গাড়িরবহর নিয়ে তুমুল গতিতে পথ চলে। ফলে এটা নিছকই দুর্ঘটনা না বরং হত্যাকাণ্ড।" তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সুন্দর ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার-২ আসনের এমপিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান।
তিনি বিএনপি নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "উনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তাকে পদচ্যুত করুন।" এই ঘটনায় নির্মমতা, দায়িত্বহীনতা ও দাম্ভিকতার উৎকট প্রকাশ ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার বর্ণনা ও নৈতিক অধিকারের প্রশ্ন
গাজী আতাউর রহমান বলেন, "এই ঘটনা আমাদের হৃদয়ে কম্পন তুলেছে। তার মায়ের হাহাকার আমাদের অশ্রুসজল করে তুলেছে।" তিনি অভিযোগ করেন যে শিশুটি মারা যাওয়ার পরে সংসদ সদস্য গাড়ি ছাড়াতে তৎপর ছিলেন এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাদেরসঙ্গে নিয়ে সেই গাড়ি জনতার হাত থেকে ছাড়িয়েও নিয়ে গেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, "একটা শিশুর মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না কিন্তু এমন একটি নির্মম ঘটনার পরেও জাতীয় সংসদে এই সংসদ সদস্যের কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই।" ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং দ্রুত বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা কক্সবাজার এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে। ইসলামী আন্দোলনের এই বিবৃতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
