নির্বাসন থেকে বিজয়: রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের আলোচিত উদাহরণ
বিশ্ব রাজনীতিতে শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও অস্থিরতার কারণে বহু বিরোধী নেতাকে নির্বাসনে যেতে হয়েছে, বিশেষত উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে। তবে ইতিহাসে এমন নজিরও রয়েছে যেখানে নির্বাসন বা কারাবাস শেষে দেশে ফিরে নেতারা বীরের বেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সর্বশেষ আলোচিত উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের তারেক রহমানের নাম, যার নেতৃত্বে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে।
তারেক রহমান: ১৭ বছর পর দেশে ফেরা ও রাজনৈতিক সাফল্য
তারেক রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান তিনি, যেখানে টানা প্রায় ১৭ বছর অবস্থান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি ব্যাপক সংবর্ধনা পান। অল্প সময়ের মধ্যেই ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের অন্যান্য নজির
তারেক রহমানের মতো বিশ্বজুড়ে আরও অনেক নেতা নির্বাসন বা কারাবাস শেষে ক্ষমতায় ফিরেছেন:
- ইরানের রুহুল্লাহ খামেনি: দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকার পর ১৯৭৯ সালে দেশে ফিরে ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন এবং ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা: ২৭ বছর কারাবাস শেষে ১৯৯০ সালে মুক্তি পেয়ে ১৯৯৪ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা স্মরণীয়।
- পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফ: সামরিক শাসনামলে নির্বাসনে গিয়ে পরে দেশে ফিরে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠার উদাহরণ স্থাপন করেন।
- বেনজির ভুট্টো: নির্বাসন থেকে ফিরে ১৯৮৮ সালে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তন ঐতিহাসিক।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নতুন অধ্যায়
এসব উদাহরণ থেকে স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও নির্যাতন সবসময় শেষ কথা নয়; বরং কখনও কখনও তা প্রত্যাবর্তনের নতুন অধ্যায় রচনা করে। নির্বাসন বা কারাবাসের মধ্য দিয়ে নেতারা প্রায়শই জনসমর্থন ও আন্দোলন গড়ে তোলেন, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের পথ সুগম করে। বিশ্ব রাজনীতিতে ফ্রান্সের নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, রাশিয়ার ভ্লাদিমির লেনিন, মিয়ানমারের অং সান সু চির মতো নেতারাও অনুরূপ পথ অনুসরণ করেছেন, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত।
