রাজধানীতে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ: কলাবাগানে হামলায় আহত শফিকুর রহমান
রাজধানী ঢাকার কলাবাগান থানার বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীতে জুতার মার্কেটের সামনে এক ভয়াবহ হামলায় বিএনপি নেতা মো. শফিকুর রহমান (৫৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া এগারোটার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার বাম হাতের তালুতে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার বিবরণ ও আহত নেতার পরিচয়
শফিকুর রহমান কলাবাগান থানার ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সিদলাই গ্রামের মৃত মফিদুল ইসলামের ছেলে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি ফুটপাতের দোকানে পাইকার হিসেবে জুতা সরবরাহের কাজ করতেন, যা তার দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ ছিল।
ফুটপাতের দোকান মালিক শাহ পরান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "শফিকুর রাত দশটার দিকে আমার দোকানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাতনামা কিছু দুষ্কৃতিকারী এসে তার বাম হাতের তালুতে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি, যেখানে জরুরি চিকিৎসা শুরু হয়।"
পুলিশ ও হাসপাতালের বক্তব্য
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, "রাতের দিকে শফিকুর নামে এক ব্যক্তিকে বাম হাতে জখম অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। পরে আমরা খবর পেয়েছি যে তিনি কলাবাগান থানার ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সম্পাদক। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে জানিয়েছি, যারা তদন্ত শুরু করেছে।"
এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। আহত নেতার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তবে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা বেড়েছে, এবং এই ঘটনাটি সেই প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
