শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল হামলা, পুলিশের তদন্ত চলছে
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজারে অবস্থিত শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রোববার রাত সাড়ে নটার দিকে এই হামলা সংঘটিত হয়, যা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে এবং কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি চাকধ বাজারে অবস্থিত বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। কার্যালয়টি ওই সময় বন্ধ ছিল, কারণ আশপাশের ব্যবসায়ীরা তারাবিহর নামাজে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেল থেকে নেমে না গিয়েই তারা দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেন, যার মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয় এবং অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় সড়কের মাঝে পড়ে থাকে।
ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা কিছু সময়ের জন্য সড়কপথে যানবাহন চলাচল স্থগিত করে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে, নড়িয়া থানার কর্মকর্তারা রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিস্ফোরিত ককটেল ও বিস্ফোরণের অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
নড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, এই হামলাটি বিএনপির সহযোগী সংগঠনের একটি কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত হয়েছে, যা বন্ধ থাকা অবস্থায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। মোটরসাইকেলযোগে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যান। পুলিশ এখন আলামত বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে এবং তদন্ত জোরদার করেছে।
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রয়েল মাঝি এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা আমাদের কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছে। ওই সময় কার্যালয়টি বন্ধ ছিল, তাই কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমরা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করছি এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই ককটেল হামলার ফলে চাকধ বাজার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের কাছ থেকে দ্রুত বিচার ও শক্তিশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা কামনা করেছেন। নড়িয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, তারা এলাকায় টহল বাড়ানো এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করার পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
ঘটনাটি শরীয়তপুর জেলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এখন যৌথভাবে কাজ করে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
