বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) একটি বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এই মাহফিলে। পাশাপাশি, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করা হয়। সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতারা এই আয়োজনটি পরিচালনা করেছেন।
উপস্থিতি ও সভাপতিত্ব
দোয়া মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, কার্ডিওলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শফিউদ্দিন আহমেদ, ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম এবং কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লোহানী মো. তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ডা. সিফাত, ডা. ফিরোজ, ডা. রাজ্জাক, ডা. হিমেল, ডা. সাব্বির, ডা. আরিফ, ডা. ইলিয়াস, ডা. শুভ, ডা. পাভেল, চিফ ফিজিওথেরাপিস্ট মহসিন আকন্দ, সজল, তানভীর হাসান এবং ছাত্রদল নেতা মুশফিক, শাহ পরান, মিরাজ হোসেন, মহিউদ্দিন মাহি, তিহান, প্রলয়, তারেকসহ আরও অনেকে।
সভাপতির বক্তব্য
ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল তার বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভীর দলীয় নিষ্ঠা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "রুহুল কবির রিজভী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন এবং নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টানা ৭৮৭ দিন অবস্থান করেছিলেন। খালেদা জিয়া মুক্ত হওয়ার পরই তিনি বাসায় ফিরে যান। এটি সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "১৯৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদের সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েও তিনি আপস করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার জন্য বিরামহীন পরিশ্রম করতে গিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভাইরাল নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হন। আজীবন দল অন্তঃপ্রাণ রুহুল কবির রিজভীর পরিপূর্ণ সুস্থতা এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আজকের এই দোয়া মাহফিল থেকে দেশবাসীর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া প্রার্থনা করছি।"
মাহফিলের উদ্দেশ্য
এই দোয়া মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির প্রয়াত নেতাদের আত্মার শান্তি এবং অসুস্থ নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করা। এটি রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা একযোগে প্রার্থনা করে এই বার্তা দিয়েছেন যে, দলীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সহমর্মিতা ও আধ্যাত্মিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যায় সমাপ্ত হয় এবং উপস্থিত সকলেই দোয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে তাদের সমর্থন ও শুভেচ্ছা জানান। এই আয়োজনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সামাজিক সম্প্রীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
