বিএনপির ইফতার মাহফিলের পর বিরামপুর কলেজ মাঠে বর্জ্য জমে, পরিবেশ বিপর্যয়
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপির উদ্যোগে একটি ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। এছাড়াও, বিরামপুর ও আশপাশের উপজেলা থেকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন।
বর্জ্য পরিষ্কারের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণকারীদের সবাইকে ইফতারির প্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। ইফতার শেষে উপস্থিত ব্যক্তিরা হাতে থাকা খালি প্যাকেট মাঠে ফেলে চলে যান। আজ রোববার সন্ধ্যায় মাঠ পরিদর্শন করে দেখা যায়, মাঠজুড়ে খালি প্যাকেট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। এছাড়াও, কলেজের অফিসকক্ষ, শ্রেণিকক্ষ, মিলনায়তন এবং শহীদ মিনারের সামনেও একই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
মাঠে পড়ে থাকা প্যাকেটের ভেতরের উচ্ছিষ্ট খাবারের খোঁজে কয়েকটি কুকুর মুখে প্যাকেট ধরে কাড়াকাড়ি করছে, যা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পথচারীরা নাক-মুখ চেপে মাঠের মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। প্রতিদিন এই মাঠে স্থানীয় যুবকদের ক্রিকেট খেলতে বা আড্ডা দিতে দেখা গেলেও আজ তাদের কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
মাঠের পূর্ব পাশে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বসে একরামুল হাসান নামের এক ব্যক্তি বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। তিনি বলেন, "গতকাল ইফতার মাহফিলের খালি প্যাকেট পড়ে থাকায় মাঠের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। রোজা থেকে মাঠে বসে গল্প করার একদম পরিবেশ নেই। সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এমন একটি সুন্দর আয়োজনের পর এভাবে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হবে, ভাবতে কষ্ট হয়।"
বিরামপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অদ্বৈত্য কুমার জানান, "আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত আমি কলেজে ছিলাম। তখনো মাঠে ইফতারির খালি প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেছি। এগুলো পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীদের পরিষ্কার করার কথা। পরিচ্ছন্নকর্মীরা নাকি রোববারে কাজ করেন না। তাঁরা আগামীকাল সোমবার এসব বর্জ্য পরিষ্কার করতে পারেন।"
পরিবেশগত প্রভাব ও সামাজিক দায়িত্ব
এই ঘটনাটি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের পর দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ইফতার মাহফিলের মতো বৃহৎ আয়োজনের পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা গেছে, যা পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্জ্য জমে থাকার কারণে মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন যে, ভবিষ্যতে এমন আয়োজনের সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পূর্বপরিকল্পনা নেওয়া হবে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়।
