হবিগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আটক: ওসিকে ফোনে গালাগাল ও হুমকির অভিযোগ
হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা আটক: ওসিকে ফোনে গালাগালের অভিযোগ

হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা আটক: ওসিকে ফোনে গালাগাল ও হুমকির অভিযোগে জড়িত

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে।

আটকের সময় ও স্থান

রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, বেলা প্রায় ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তুষার চৌধুরীর নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শামীম ইকবাল এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। আটকের পর তুষার চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অডিও ক্লিপ ভাইরাল ও সমালোচনা

এর আগে, শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। এই অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

তুষার চৌধুরীর বক্তব্য

আটকের আগে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তুষার চৌধুরী দাবি করেন, ‘আমি গত দুই মাসের মধ্যে কোনদিন ওসিকে ফোনও দেইনি। আমি আমার ম্যানেজারকে গালাগাল করেছি, সেটাকে এডিট করে কেউ ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, এই অডিওটি বিকৃত করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

মামলা ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

সর্বশেষ তুষার চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কী না জানতে বাহুবল থানার ওসি, সহকারী পুলিশ সুপার বাহুবল সার্কেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের মোবাইলে কল দেওয়া হলে কেউ কল রিসিভ করেননি। এই বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

পূর্ববর্তী কল রেকর্ড

এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারের কণ্ঠে একটি কল রেকর্ড ভাইরাল হয়। এই কল রেকর্ডে তুষারকে বলতে শোনা যায়, ‘বাহুবলে চাকরি করতে হলে আমারে কইয়া করন লাগব’। পরে ওসিকে তিনি এই হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যদিও কল রেকর্ডটি কত দিন আগের তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনাটিও বর্তমান আটকের পটভূমি তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিএনপি নেতা তুষার চৌধুরীর আইনি অবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সকলের নজর রাখা হচ্ছে।