ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিএনপিতে খৈয়মের রাজনৈতিক যাত্রা
সময়টা ১৯৯১ সাল। রাজবাড়ীতে বিএনপির তুমুল জনপ্রিয়তা থাকলেও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এম. এ খালেককে মনোনয়ন দেওয়ায় নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যের মৃত্যু হলে আবারও তাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই সময় কেবিনেটের সব সদস্যরা মিলে চেষ্টা করেও এম.এ খালেককে বিজয়ী করতে পারেনি।
বিএনপির রাজবাড়ীতে বারবার পরাজয়
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমকে বিএনপি থেকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি তৃতীয় স্থান লাভ করে পরাজিত হন। এভাবে রাজবাড়ীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের বারবার পরাজয় হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বের হয়ে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেন।
বিএনপিতে যোগদানের পর সাফল্য
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম রাজবাড়ীর জনগণের বিপুল ভোটে রাজবাড়ী পৌরসভার তিনবার পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি ছাত্রজীবনে বাকশালী শাসনের বিরুদ্ধে থাকায় প্রথমবার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। এরপর এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
মইনুদ্দিন-ফকরুদ্দিনের সময় দীর্ঘদিন তিনি কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালে অসংখ্য মামলার শিকার হয়ে রাজপথে দাঁপিয়ে বেড়াতে থাকেন। তিনি দুবার রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংসদ সদস্য থেকে প্রতিমন্ত্রী
২০০১ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজবাড়ী শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের মাঝে নজর কাড়েন। রাজবাড়ী-১ আসন থেকে ২০০৮ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সর্বশেষ ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন লাভ করেন। পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের বাবা মৃত ডা. এ কে এম ওয়াহিদ ছিলেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। মা মৃত রাজিয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক।
সর্বশেষ নির্বাচনে বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এই বিজয় তার রাজনৈতিক জীবনে আরেকটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
