১৭ বছর পর জুতা পরলেন বিএনপি ভক্ত সুরুজ পাঠান, দলের ক্ষমতায় আসায় প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ
১৭ বছর পর জুতা পরলেন বিএনপি ভক্ত সুরুজ পাঠান

১৭ বছর পর জুতা পরলেন বিএনপি ভক্ত সুরুজ পাঠান, দলের ক্ষমতায় আসায় প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ পাঠান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে খালি পায়ে চলাফেরা করার পর অবশেষে জুতা পরেছেন। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একটি ঘটনার পর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, যতদিন তার দল বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসবে, ততদিন তিনি খালি পায়ে থাকবেন। সম্প্রতি বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তিনি নিজের এই শপথ ভেঙেছেন।

প্রতিজ্ঞার পেছনের ঘটনা

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৮ সালের নির্বাচনের দিন লেঙ্গুরা ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে আসরের নামাজের পর সুরুজ পাঠানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় ভিড়ের মধ্যে তার এক পায়ের জুতা কাদায় আটকে খুলে যায়। অভিমানবশত তিনি অপর জুতাটিও সেখানে ফেলে দেন এবং সেদিনই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি খালি পায়েই থাকবেন।

দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ

এরপর থেকে সুরুজ পাঠান রোদ-বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্মসহ সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে খালি পায়েই চলাফেরা করেছেন। তিনি লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ১৭ বছর ধরে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি জুতা পরতে রাজি হননি, এমনকি প্রচণ্ড শীতেও তার এই সংকল্প অটুট ছিল।

ক্ষমতায় আসায় প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ

বিএনপি সরকার গঠন করার পর বুধবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা সুরুজ পাঠানকে নতুন জুতা পরিয়ে দেন। সুরুজ পাঠান বলেন, "আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল, যেদিন দল ক্ষমতায় আসবে এবং তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নেবেন, সেদিন তার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো একজোড়া স্যান্ডেল বা জুতা পায়ে দেব। সেই স্বপ্ন পুরোপুরি পূরণ না হলেও দল ক্ষমতায় আসা এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আমার দীর্ঘদিনের কষ্ট সার্থক হয়েছে।" তিনি এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, "১৭ বছর ধরে বারবার অনুরোধ করার পরও সুরুজ জুতা পরেননি। প্রচণ্ড শীতেও তিনি খালি পায়ে হেঁটেছেন। তাকে এভাবে দেখে আমাদের খুব কষ্ট হত। দলের প্রতি তার এমন ত্যাগ ও প্রতিজ্ঞা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এমন ত্যাগী নেতাকর্মীর যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে দল আরও সুসংগঠিত হবে।"

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সংকল্পের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সুরুজ পাঠানের দৃঢ়তা ও ত্যাগ বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।