বাবার চেয়ারে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের আবেগঘন বার্তা
ফারজানা শারমিনের আবেগঘন বার্তা বাবার চেয়ারে

বাবার চেয়ারে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের আবেগঘন বার্তা

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল শপথ নেওয়ার পর প্রথম দিন অফিস করে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, 'আজ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন। দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে যে অফিসে বসে আব্বু দেশের জন্য কাজ করেছিলেন, আজ আমি সেই একই অফিসে বসে দেশের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি।'

বাবার স্মৃতির সঙ্গে আবেগময় মুহূর্ত

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল তার পোস্টে লিখেছেন, 'দিন-রাতে এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন আমার বাবা আমার সঙ্গে থাকেন না।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, অফিসে বসে পাশের বোর্ডের ৬ নম্বর তালিকায় বাবার নামের দিকে যতবার চোখ পড়েছে, মনে হয়েছে বাবা তাকে বলছেন, 'আমি তোমার জন্য এখানে অপেক্ষা করছিলাম।' এই আবেগঘন অভিব্যক্তি তার বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে দায়িত্ব পাওয়া অন্তত সাতজন প্রতিমন্ত্রী বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী, প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান, এরপর ১৯৯৩ সালে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হন এবং ২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

ফজলুর রহমান পটলের রাজনৈতিক জীবন

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে চারবার এমপি হওয়া পটল দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট মারা যান। তার সেই আসন থেকেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারজানা শারমিন। প্রথমবার এমপি হয়েই তিনি সেই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, যেখানে একসময় তার বাবা অফিস করেছেন।

এই ঘটনা রাজনৈতিক পরিবারে উত্তরাধিকারের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ফারজানা শারমিন পুতুল তার বাবার পদচিহ্ন অনুসরণ করে দেশসেবায় নিবেদিত হচ্ছেন। তার আবেগঘন বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।