ড. ইউনূস যমুনা ছাড়বেন কবে? গুলশানে ফিরতে পারেন আগামী সপ্তাহেই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন সরকার গঠন করেছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দলীয় নেতা তারেক রহমান। এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হয়েছে, যার ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটেছে।
যমুনা ভবন ছাড়ার সময়সীমা নিয়ে জল্পনা
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা কবে ছাড়বেন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং এরপর তিনি কোথায় অবস্থান করবেন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে তথ্য পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতি কিছুটা স্পষ্ট করেছে।
ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তিনি শীঘ্রই যমুনা ভবন ছেড়ে গুলশানে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে চলে যাবেন। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, খুব দ্রুতই তিনি সরকারি বাসভবন ত্যাগ করে ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য যমুনা ভবন প্রস্তুতির কাজ
সরকারি একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যমুনা ভবনে অবস্থান করতে পারেন। তবে তার আগে ভবনটিতে কিছু সংস্কারকাজের প্রয়োজন পড়তে পারে। এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ড. ইউনূসের প্রস্থানের পর ভবনটি প্রস্তুত হতে কিছু সময় লাগবে।
ড. ইউনূসের দায়িত্বকাল ও বর্তমান পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। তিনি টানা ৫৫৯ দিন ধরে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শেষ করে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাড়াই যমুনা ভবনে ফিরে গিয়েছিলেন।
দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন তিনি তার পূর্বের পেশাগত কর্মকাণ্ডে ফিরে যেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তিনি নবঅনুমোদিত গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনায় যুক্ত হতে পারেন। গত ১৭ মার্চ দেশের ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন পেয়েছে, যা তার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
সামগ্রিকভাবে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই পর্যায়ে ড. ইউনূসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বসবাসের স্থান নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে তার কার্যক্রম ও অবস্থান নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।
