মনোনয়ন না পেয়েও মন্ত্রী হলেন বিএনপির আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন
কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে তার সমর্থকরা এক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন এবারের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ আসনে নিজের মনোনয়ন জমা দেন। এই আসনটি কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত।
নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পরও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আশ্বাসে তিনি নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করে তাকে বিজয়ী করিয়ে আনতে সহায়তা করেন। এই সিদ্ধান্তে তার অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক হতাশা ছড়িয়ে পড়েছিল।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে চমক
কিন্তু মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। পরে তিনি মন্ত্রী হিসেবেও শপথ নেন। এই ঘোষণার পর কুমিল্লার নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে যায়।
আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন নিজেই জানিয়েছেন, "মন্ত্রিপরিষদের শপথে যেতে কল পেয়েছি। কুমিল্লার মানুষের ইচ্ছে হয়তো পূরণ হবে।" তার এই উক্তিতে স্থানীয়দের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতিহাস
আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনের রাজনৈতিক জীবন বেশ দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য:
- ১৯৯৬ সালে তিনি কুমিল্লা-৯ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
- ২০০৯ সালে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- একই বছর তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
- পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন।
- ২০২২ সালের ৩০ মে তাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।
- ২০২৫ সালের ১২ মার্চ তিনি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সম্প্রদায়ের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাকে মন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পথ সুগম করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
