শরীরে তো ছিলই, মগজের খোসপাঁচড়া ইদানীং মারাত্মক রকমের বেড়ে গেছে। জি, তাদের কথাই বলছি, রবীন্দ্রনাথ নাম শুনলেই যাদের শরীরে ও মগজে চুলকানি ওঠে। রবীন্দ্রনাথ তাদের কাছে কাঁকড়াবিছা। তাদের ঘুণ ধরা চিন্তার জগতে একের পর এক বিছুটি পাতার ডলা… নাহ্, শপাং শপাং আঘাত।
এই চুলকানির সঠিক ডায়াগনোসিস করতে হবে। তারপর ধরিয়ে দিতে হবে ধন্বন্তরি মলম।
রোগের নাম: নোবেল-ডার্মাটাইটিস
লক্ষণ: এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের চুলকানি ও এর প্রদাহ প্রবল। ঘ্যাঁষঘ্যাঁষ করে … (শূন্যস্থানে কী বসাবেন সেটা আপনার চয়েস) চুলকায়, আর বলে, রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশদের তোষামোদি করে নোবেল পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ছিল ব্রিটিশদের গোলাম। ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেক ও ভারতের দরবারে আগমন উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ লেখেন: জনগণমন বা ভারত ভাগ্যবিধাতা।
ডায়াগনোসিস: ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর কংগ্রেস নতুন রাজাকে সংবর্ধনা জানিয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে পঞ্চম জর্জের সম্মানে গান পরিবেশিত হয়। ভজনে মানপত্র পাঠ এবং ভোজনে পাঁঠা ছিল কি না জানি না। তবে এটা নিশ্চিত জানি, ওই অনুষ্ঠানে ‘জনগণমন’ গাওয়া হয়নি। দিল্লির সর্বভারতীয় অনুষ্ঠানে বাংলা গান? ওই অনুষ্ঠানে গাওয়া হয় ‘বাদশা হামারা’, যা লেখেন রামভূজ চৌধুরী।
রবীন্দ্রনাথের ভারত ভাগ্যবিধাতা গানটি প্রকাশিত হয় ওই বছরই ২৭ ডিসেম্বর। সেটি কি রাজা জর্জকে উদ্দেশ করে লেখা? যদিও লিখেও থাকেন, ডেডলাইন পার করে ফেললেন কেন, ওস্তাদ? জর্জ বাবুকে তৈলমর্দনে জর্জরিত করতে লেট হয়ে গেল না?
না, রবীন্দ্রনাথ পঞ্চম জর্জকে মাথায় রেখে এই গান লেখেননি। সেটা তিনি নিজে বলেছেন। কিন্তু তার কথা মানার দরকার নাই। আমরা গানটার সিটি স্ক্যান করে ফেলি। আজ সব হবে ডাক্তারি কায়দায়।
এ কী, রবীন্দ্রনাথ যে এক জায়গায় লিখছেন, ‘অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত/ শুনি তব উদার বাণী/ হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক/ মুসলমান খৃস্টানী’। ব্রিটিশদের ডিভাইড অ্যান্ড রুলের বিরুদ্ধে তাঁর মতো করে লেখা প্রতিবাদ। সিপাহী বিদ্রোহের সুর অলক্ষ্যে বেজে উঠল এই লাইনটায়—‘দারুণ বিপ্লব-মাঝে/ তব শঙ্খধ্বনি বাজে।’
সব বাদ দিন। শুধু এই লাইন খেয়াল করুন: ‘দুঃস্বপ্নে আতঙ্কে রক্ষা করিলে অঙ্কে স্নেহময়ী তুমি মাতা’। আই মিন, সিরিয়াসলি? প্রবল পৌরুষের অহং নিয়ে সিংহের আসনে বসা পঞ্চম জর্জকে রবীন্দ্রনাথ বলছেন ‘স্নেহময়ী মাতা’!
রবীন্দ্রনাথ দেশকে সব সময় মায়ের ছবিতে কল্পনা করেছেন। ‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি’। এই গানটাই আসলে ঝামেলার শুরু। এই গানের প্রেক্ষাপট বুঝলে রোগের উৎসে সরাসরি চলে যেতে পারব আমরা।
রবীন্দ্রনাথ প্রবলভাবে বাংলা ভাগের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে আসলে ধর্মের ভিত্তিতে বাঙালি জাতিকে দুই ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। বাঙালি ঐক্যবদ্ধ থাকলে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। (তাঁর মত ঠিক কি বেঠিক, সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আমার নাই। তবে বাঙালি ভোগে আর ভাগে বিশ্বাসী। ভাগ হয়ে দুই বাংলা হয়েছে। এখন দুই বাংলার বাঙালিরা নিজেদের মধ্যে আরও আরও ভাগে ভাগ হচ্ছে। কারণ বাঙালি হচ্ছে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর। ভেঙে ভেঙে এরা ঘটাবে পারমাণবিক বিস্ফোরণ। পৃথিবী সেদিন বুঝবে বাঙালি কী চিজ!)
বাংলায়, বিশেষ করে পূর্ব বাংলায় ইসলাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তেরো শতকের দিকে। কোম্পানি শাসন শুরু হয় আঠারো শতকে। অর্থাৎ মাঝখানে প্রায় পাঁচশ বছর হিন্দু-মুসলিম এই বাংলায় পাশাপাশি বসবাস করেছে। এত দীর্ঘ সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালের মতো ব্যাপক ও সংগঠিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস বিরল।
কংগ্রেসের সঙ্গে জড়িত থাকলেও রবীন্দ্রনাথ অ্যাকটিভিজম করেছেন খুব কম। যে কটি ব্যতিক্রম, তার একটি বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে তার খালি পায়ে রাস্তায় নেমে আসা। রাখিবন্ধনের আয়োজন করা। একটাই উদ্দেশ্য: ধর্ম বিশ্বাস আর তার আচারটুকু ছাড়া তোমার আমার অমিল কোথায়? তুমি আর আমি তো ভাই।
সে সময়ই রবীন্দ্রনাথ লেখেন ‘আমার সোনার বাংলা’। গানটিই গত ষাটের দশকে হয়ে ওঠে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষের প্রেরণার ভরকেন্দ্র। তখনকার ছাত্রনেতারা কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার একটি ছিল ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো’ গানটিকে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বেশি করে ব্যবহার করা। আরেকটি সিদ্ধান্ত ছিল, ঘটা করে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন। একই সময়ে গড়ে ওঠে ছায়ানট। কেন রবীন্দ্রনাথ? কারণ তার মতো করে এত মমতা দিয়ে দেশকে ভালোবাসতে আর কেউ শেখায়নি। ‘ওগো মা, তোমার কোলে জনম আমার, মরণ তোমার বুকে।’ ‘ও মা, অনেক তোমার খেয়েছি গো, অনেক নিয়েছি মা—তবু জানি নে-যে কী বা তোমায় দিয়েছি মা!’
আইয়ুব খান বুঝে উঠতে পারতেন না, এই হাড্ডিসার, খর্বকায় বাঙালগুলো এত প্রতিবাদ, মিটিং-মিছিল করার ‘তাকদ’ আসলে পায় কোত্থেকে? বাংলা বাংলা করে এত অস্থির! আরে, উর্দুর মতো এত আশরাফি জবান, আরবি হরফে (আসলে নাস্তালিক লিপি) লেখা বর্ণমালা; এইসব মানে না! এর পেছনে আছে জমিদারের নাতি রবীন্দ্রনাথ। এদের মাথার ভেতরে ঘাঁপটি মেরে বসে আছে ভূত হয়ে। ওঝার ভূমিকায় নেমে আইয়ুব শাহী রবীন্দ্রনাথকে তাড়াতে চাইলেন। বেতারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে রবীন্দ্রনাথকে সংকুচিত করতে করতে প্রায় নিষিদ্ধই করা হলো।
এই চেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেল ছাত্ররা। তোমার শেকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে? আরও বেশি আঁকড়ে ধরো শেকড়। এখনো ফেসবুকে দেখবেন, ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটা যে জাতীয় সংগীত হিসেবে খুব একটা ভালো না, কওমি তারানার জিহাদি জোশটা নাই—এমন হরেক আলোচনা। এরা আইয়ুবী-ধারারই উত্তরসূরি, যারা এখনো মনে করে, পাকিস্তান ভাগ হওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। যারা মনে করে, আইয়ুব খানের মতো শাসক পৃথিবীতে খুব কম এসেছে। তাই রবীন্দ্রনাথকে হাতের কাছে না পেয়ে তারা আগুন দেয় ছায়ানটে।
গানটায় ‘জোশ’ আসলেই কম। রবীন্দ্রনাথ আবেগের প্রকাশ সব সময় একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় বেঁধেছিলেন। কোনো লেখায় ‘তীব্রতা’ ব্যাপারটা নেই। সেটা ভালোবাসা প্রকাশে হোক, বিরহ কিংবা ক্ষোভে। কিন্তু গান তো গলা দিয়ে নয়, হৃদয়ের গভীর থেকে গাওয়ার জিনিস। মন থেকে গাইলে ‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে, আমি নয়ন, ও মা আমি নয়ন জলে ভাসি’ লাইনটায় পাষাণ হৃদয়ও আর্দ্র হবে। তখন চোখ বন্ধ করে নিজের মায়ের মুখটা ভাবলে, সত্যি নয়নজলে ভাসতেও পারেন।
রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মতো খ্যাপা নন। দেবী দুর্গার আনন্দময়ী আগমনীর কবিতা বাঁধতে গিয়ে যিনি লিখবেন, ‘আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল? স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল। দেব–শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি, ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?’ রবীন্দ্রনাথ লিখবেন, ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী/ভয় নাই, ওরে ভয় নাই/ নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান/ ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই’। লিখবেন, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।’ আর এই ছোট্ট স্ফূলিঙ্গ বারুদের জ্বালানি হবে স্বদেশি আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে।
রবীন্দ্রনাথ শব্দের আঘাতে অবশ্যই চাবুক মারবেন। কখন? যখন জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ-রাজের দেওয়া সর্বোচ্চ খেতাব ‘নাইটহুড’ ছুড়ে ফেলে লিখবেন, ‘The time has come when badges of honour make our shame glaring in the incongruous context of humiliation।’ হে মহামান্য, যে সম্মানের পদক আমার গলায় চড়িয়েছেন, ওটা ভারতের নিরীহ জনতার রক্তে স্নাত হয়ে এমন লজ্জার আলোয় ঝকমক করছে, তা হয়ে গেছে লজ্জার-অপমানের পদক।
আরএক্স
রোগের নাম: টেগোরোফোবিয়া
উপসর্গ: ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতা করল ক্যান’ বলে ঘ্যান ঘ্যান করা।
ডায়াগনোসিস: রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধী ছিলেন—এ নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটা কিন্তু ইন্টারেস্টিং। আমি এটাকে সায়েন্স ফিকশনের মর্যাদা দেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে এক বিশাল সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে রবীন্দ্রনাথ জ্বালাময়ী ভাষণের একপর্যায়ে বলেন, ‘মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়?’ প্রবল হাততালি পড়ে। কলকাতার দাদারা স্লোগান ধরেন: জেগে উঠেছে রবীন্দ্রনাথ/বাঙালদের করব কাত।
এখানেই গল্পটা সায়েন্স ফিকশন হয়ে ওঠে। কারণ একই সময়ে রবীন্দ্রনাথ প্রায় শতমাইল দূরে শিলাইদহে, মানে ‘এই মূর্খের’ দেশেই ছিলেন। ২৮ মার্চের ওই সভার চার দিন আগে কলকাতা ছাড়েন। শিলাইদহে ছিলেন ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এই সময়কালে শিলাইদহে তিনি ১৮টি কবিতা ও গান লেখেন। ২৮ মার্চ, কলকাতার ওই সভার দিন শিলাইদহে লেখা তার কবিতার প্রথম তিনটি লাইন সন্দেহজনক: ‘স্থিরনয়নে তাকিয়ে আছি/ মনের মধ্যে অনেক দূরে/ ঘোরাফেরা যায় যে ঘুরে’। রবি বাবুর সরল স্বীকারোক্তি: আমি একই সময় শিলাইদহে থাকতে পারি আবার কলকাতাতেও। এখানে বোটে বসে কবিতা লিখছি, কলকাতায় আমারই ক্লোন রবীন্দ্রনাথ বলছে: মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়!
রবীন্দ্রনাথ সে সময় শিলাইদহেই ছিল তার প্রমাণ হিসেবে রেলের টিকিট দেখাতে পারব না। তবে রবীন্দ্র রচনাবলি খুললেই বুঝবেন, প্রতিটা লেখার নিচে রচনাকাল ও স্থান লিখে দিতেন রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্র রচনাবলি বাসায় নেই? দুই প্যারা ওপরে লেখা কবিতার লাইনগুলো গুগলে পেস্ট করে তারিখ দেখুন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার ভিসি আশুতোষ মুখার্জি আসলেই চাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হোক। অনেক চেষ্টা-তদ্বির করেছেন। তার সঙ্গে দূরদুরান্তেও রবীন্দ্রনাথের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আসলেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। ভালো বেতন এবং গবেষণার সুযোগ-সুবিধার কারণে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রমেশচন্দ্র মজুমদার, সত্যেন বোসরা কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় চলে এসেছিলেন; এসেছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহও। শাস্ত্রী মশাই, রমেশচন্দ্র কিংবা আইনস্টাইনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নাম সত্যেন বোসও কিন্তু ভাবেননি: মূর্খ মুসলিমদের পড়াতে যাচ্ছি কেন? আমি তো হিন্দু!
রবীন্দ্রনাথ যে বিশ্ববিদ্যালয় চাননি, প্রতিষ্ঠার ৫ বছরের মাথায় তাতেই তিনি এলেন সংবর্ধনা নিতে! সেখানে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে বলেছিলেন, ‘তোমরা শুধু ডিগ্রিধারী না হয়ে চিন্তাশীল মানুষ হও। নিজের সংস্কৃতি ও ভাষাকে ভালোবেসো। সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ নয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলো।’
সকল ডায়াগনোসিস শেষে আপনাদের যাবতীয় চুলকানির ধন্বন্তরি মলমটা এবার দেই। সেদিনের ভাষণে রবীন্দ্রনাথ এও বলেছিলেন, ‘প্রকৃত শিক্ষা মানুষের চিন্তাকে মুক্ত করে, তাকে সংকীর্ণ গণ্ডিতে আটকে রাখে না।’ রবীন্দ্রনাথের গানেও আছে, ‘নয়নের দৃষ্টি হতে ঘুচবে কালো, যেখানে পড়বে সেথায় দেখবে আলো।’
পৃথিবীতে অন্ধকার আছে। কিন্তু আসল অন্ধকার চোখের মধ্যেই ঘাঁপটি মেরে থাকলে, সেটা আগে দূর করুন। হয়তো অন্ধকারেও খুঁজে পাবেন আলো। সেই আলো দিয়ে দেখলে রবীন্দ্রনাথের সত্যিকারের ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো খুঁজে পাবেন। এত প্রগতিশীল মানুষ হয়েও প্রায় সব কন্যাকে অপরিণত বয়সে বড় অঙ্কের পণ দিয়ে অপাত্রে দান করা রবীন্দ্রনাথকেও পাবেন। তিনি তো আর দেবতা নন; রক্তেমাংসে গড়া মানুষ।
কিন্তু ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদে’র বিরুদ্ধে আপনার রাগ-ক্ষোভের কেন্দ্রস্থল যারা রবীন্দ্রনাথকে করতে চায়, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে শিখুন। আপনার ভাবনাকে অনেকে তাদের মতো করে ছাঁচে গড়তে চায়। শেকলে বাঁধতে চায়। তাদের বলুন, যেখানে বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে নির্বারিত স্রোতে উচ্ছ্বসিয়া ওঠে, যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি বিচারের স্রোতঃপথ গ্রাস করে না… আমরা সেই বাংলাদেশ চাই।



