প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানম রিতা
প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হলেন আফরোজা খানম রিতা

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানম রিতা

মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আফরোজা খানম রিতা। স্বাধীনতার পর এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, যা একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

বিএনপি ও জেলাবাসীর উচ্ছ্বাস

আফরোজা খানম মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় মানিকগঞ্জে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যা তার জনপ্রিয়তা ও সমর্থনের প্রমাণ বহন করে। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

আফরোজা খানমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বাবার হাত ধরেই। তার বাবা প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবা হারুনার রশিদ খানের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর তিনি জেলা ও রাজধানী ঢাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (হরিরামপুর ও সিঙ্গাইর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আফরোজা খানম। ২০১০ সালে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন, যা তার দলীয় অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। পরের বছর ২০১৩ সালে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন

আফরোজা খানম মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও সফলতা অর্জন করেছেন। তার মন্ত্রী হওয়ায় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ জেলাবাসী আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। বিএপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘আফরোজা খানম রিতা মন্ত্রী হয়েছেন। এ খবরে শুধু দলের নেতাকর্মীই নন, পুরো জেলাবাসীই আনন্দিত ও গর্বিত।’

এই উন্নয়ন মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্বকে আরও উৎসাহিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।