চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে কারা স্থান পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন জোরালো আলোচনা চলছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা যে কোনো সময় হতে পারে, এবং মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রামের এমপিদের ঢাকায় উপস্থিতি
ইতোমধ্যে, বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের মধ্যে ২১টি আসন থেকে নির্বাচিত ধানের শীষের এমপিরা রাজধানী ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। তারা এমপি হিসাবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রিত্বের সম্ভাব্য সুসংবাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। গত ২০০১-২০০৫ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই অঞ্চল থেকে ৯ জন নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ৮ জন এমপি এবং একজন টেকনোক্রেট কোটায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবারের মন্ত্রিসভায় সেই সংখ্যা বাড়বে না কমবে, তা নিয়েই চলছে নানা বিশ্লেষণ।
মন্ত্রিত্বের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, আসন্ন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার আকারের ওপর নির্ভর করছে চট্টগ্রাম থেকে কতজন নেতা অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে প্রাথমিকভাবে অন্তত চারজন এমপিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করা হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলাপচারিতায় যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন:
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ।
- চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
- চট্টগ্রাম-১০ (খুলশি-পাহাড়তলী) আসনের এমপি ও বাংলাদেশ পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান।
এছাড়াও, টেকনোক্রেট কোটায় সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খোন্দকার এবং রাঙামাটি আসনের এমপি দীপেন দেওয়ানের নামও মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। কোতোয়ালি আসনকে ঐতিহ্যগতভাবে ভিআইপি আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং এবারও এই আসন থেকে নির্বাচিত প্রার্থী মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেকর্ড ভোটে জয়ী প্রার্থীদের সম্ভাবনা
চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী ধানের শীষের প্রার্থী এনামুল হক এনাম এবং চন্দনাইশে জসিম উদ্দিন আহমেদের মতো রেকর্ড ভোটে বিজয়ী নেতাদেরও মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে তা অপ্রত্যাশিত হবে না বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, "আসন্ন মন্ত্রিসভার আকার ও চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সাংগঠনিক স্তরে আলোচনা না হলেও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আমার ধারণা, এবার একটি ‘স্মার্ট কেবিনেট’ গঠন করা হবে, যেখানে জনগণের জন্য কাজ করার অদম্য ইচ্ছা ও ইতিবাচক গণধারণা সম্পন্ন নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।"
সর্বোপরি, বিএনপির নতুন সরকার গঠনের এই প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণিত হচ্ছে, এবং মন্ত্রিসভায় এই অঞ্চলের নেতাদের অন্তর্ভুক্তি জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়েই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ।
