রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ

রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভের পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছিল যে তিনি আগামীর 'রাষ্ট্রনায়ক' হচ্ছেন।

১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করবে নতুন মন্ত্রিসভা। নির্বাচনের পর থেকেই তারেক রহমানের কর্মব্যস্ততা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে শীর্ষ নেতাদের পদচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথন চলছে।

সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা

টানা কর্মব্যস্ততার মধ্যে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখা গেছে দফায় দফায় বৈঠক করতে। জোটসঙ্গী ও সারা দেশ থেকে আগত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শুভেচ্ছা গ্রহণ এবং মন্ত্রিসভার সদস্য বাছাইয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, "নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তারেক রহমান। জনগণের অভূতপূর্ব রায় পেয়ে সারা দেশের নেতাকর্মীরাই উদ্বেলিত।"

প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং সম্পন্ন

নির্বাচনের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং সম্পন্ন করেন তারেক রহমান। সেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। ফুরফুরে মেজাজে তিনি বলেন, "ধানের শীষের জয় অবশ্যম্ভাবী।" এক ধরনের আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল তার বক্তব্যে।

মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক করেন তারেক রহমান। এতে আগামী সরকারে কারা থাকতে পারেন, সে বিষয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক ভাইস চেয়ারম্যান জানান, অতীতে চারিত্রিক কালিমা নেই বা ব্যক্তিগতভাবে ক্লিন ইমেজের অধিকারী— এমন নেতাদের বাছাইয়ে প্রাধান্য দিচ্ছেন তারেক রহমান।

বিজয়ী ও পরাজিত উভয়কেই সময় দিচ্ছেন

নির্বাচনের প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন আসন থেকে বিজয়ী নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। সর্বশেষ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের আ ন ম এহসানুল হক মিলন, নরসিংদীর খায়রুল কবির খোকন ও ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচিত রবিউল আলম রবিসহ বেশ কয়েকজন নেতার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। এছাড়া গুলশানের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নিজ জোটের পরাজিত দুই প্রার্থীও।

বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে টেলিফোন আলাপ

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় বিশ্বের বিভিন্ন সরকারপ্রধান টেলিফোন করছেন তারেক রহমানকে। এরইমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টেলিফোন করেছেন ও বার্তা পাঠিয়েছেন।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাসায় যাচ্ছেন

আওয়ামী লীগবিহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের আসনে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাদের নির্বাচনি জোট ১১ দলীয় ঐক্যের আরেক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও তৃতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এই জোটের দুই শীর্ষ নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এর মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির রাজনীতির ধারা চালুর ইঙ্গিত স্পষ্ট করে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, "এবার তারেক রহমান একটি সেরা মন্ত্রিসভা উপহার দিতে চান। এছাড়াও সবাইকে নিয়ে রাষ্ট্র গঠন করতে চান। তাই তিনি সবার সঙ্গে কথা বলছেন।"