ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ৮ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো ৫ জন জাতীয় সংসদে প্রবেশ করছেন। এছাড়াও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা এবার ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’ খ্যাত এই ছাত্রসংগঠনের সাবেক শীর্ষ নেতৃত্বের সংসদে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হওয়ায় সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচিত নেতাদের তালিকা ও ভোটের সংখ্যা
নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান। তিনি ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতা ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১ আসন থেকে এক লাখ ৬০ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলনও এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যিনি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যিনি সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং এক লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়েছেন।
মন্ত্রিসভা গঠনে তোড়জোড় ও সম্ভাব্য কাঠামো
সংসদ নির্বাচন শেষে শুরু হয়েছে মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড়। নির্বাচিত ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকজনকে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। যারা ভোট করেননি তাদের মধ্য থেকে একাধিক ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় কেবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নানা চমকে ঠাসা থাকবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা। এবার প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যমের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। তবে মন্ত্রিসভার আকার বেশি বড় হবে না বলে বিএনপির নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের মধ্যে থাকতে পারে মন্ত্রিসভা।
অন্যান্য বিজয়ী নেতাদের তথ্য
এবার প্রথমবারের মতো খুলনা-৪ আসন থেকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল ধানের শীষে বিজয়ী হয়েছেন। খুলনার আরেকটি আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) থেকে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালি) আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম জয়ী হয়েছেন। পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবিএম মোশাররফ হোসেন, যিনি সাবেক ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা-৯ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন হাবিবুর রশিদ হাবিব, যিনি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজীব আহসান বরিশাল-৪ আসন থেকে ধানের শীষে বিজয়ী হয়েছেন, তিনি সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি ও যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা
সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও এবার টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হবে। এদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। এই দুজন দলের জন্য নিবেদিত এবং তারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও দলীয় আলোচনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রসংগঠন থেকে উঠে আসা এসব নেতার সংসদে প্রবেশ দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাওয়া সাবেক এসব নেতাদের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রনেতৃত্বের ধারাবাহিক প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক একজন নেতা বলেন, মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন সেটি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করছেন। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
