ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সকল প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে
নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক নির্বাচিত সদস্য ঢাকায় পৌঁছেছেন এবং বাকিরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে একই দিন সন্ধ্যার পর অথবা পরদিন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। মন্ত্রীদের জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত গাড়িসহ সকল আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকা প্রায় চূড়ান্ত
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ করে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। এই মন্ত্রিসভায় ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনীতিকদের পাশাপাশি তরুণ মুখ এবং টেকনোক্র্যাট কোটার সদস্যও থাকতে পারেন।
জোটের শরিক দল থেকে তিন সদস্য
এদিকে জোটের শরিক দল থেকেও তিনজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুর। এছাড়া নির্বাচনে পরাজিত হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনায় থাকতে পারেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
মহাসচিবের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। কিছু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
প্রবীণ নেতাদের তালিকা
সম্ভাব্য মন্ত্রী তালিকায় বিএনপির প্রবীণ নেতাদের মধ্যে আছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান এবং এজেডএম জাহিদ হোসেন। এদের মধ্যে কয়েকজন টেকনোক্র্যাট কোটায়ও আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেকনোক্র্যাট কোটার সম্ভাব্য সদস্য
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় আছেন রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন, আমিনুল হক এবং ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সদস্য সংসদের বাইরে থেকে নেওয়া যায়। সে হিসাবে যদি ৪০ সদস্যের মন্ত্রিসভা হয়, সেখানে সর্বোচ্চ চারজন টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা শপথ অনুষ্ঠানের দিন প্রকাশ
চূড়ান্ত মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশ করা হবে শপথ অনুষ্ঠানের দিনই। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
