ঢাকা-১৪ আসনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর জোরালো প্রতিবাদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে ব্যাপক অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি এবং প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অসহযোগিতার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগগুলি উত্থাপন করেন এবং এ আসনের ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
ভোটারদের উপর চাপ ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে তুলি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন যে, ভোটের দিন সকাল থেকেই তার নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে সক্রিয়ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৪ আসনের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ ১৫ বছর পর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগ্রহী ছিল, কিন্তু প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তাদের এই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
পোলিং এজেন্টদের উপর চাপ ও আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ
বিএনপির এই প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন যে, অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার আগেই খালি রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে গভীর রাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন এবং ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নির্বাচনি বিধিমালার চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে তুলির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেরি করা হয়েছে। অনেক কেন্দ্রের ফলাফল সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনি বিধিমালার চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়। এই কর্মকাণ্ডগুলি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
পাঁচটি মূল দাবি উপস্থাপন
বক্তব্যকালে সানজিদা ইসলাম তুলি পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করেন:
- নির্বাচনের সব অনিয়মের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা।
- ঢাকা-১৪ আসনের নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল অবিলম্বে স্থগিত করা।
- অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোর ফলাফল বাতিল করা।
- ঢাকা-১৪ আসনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দাবিগুলি বাস্তবায়ন না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভোটারদের আস্থা হ্রাস পাবে। তার এই অভিযোগ ও দাবিগুলি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের সাড়া প্রত্যাশিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
