জামায়াতকে 'উগ্রবাদী দল' আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুলের তীব্র সমালোচনা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীকে একটি 'উগ্রবাদী দল' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই দলের সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে সরাসরি দায়ী রয়েছে আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থা।
ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। মির্জা ফখরুল তার ভাষণে বলেন, 'দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশে একটি ফ্যাসিস্ট শাসন চলছে। যখনই গণতন্ত্রকে চাপা দেওয়া হয়, যখন তার কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়, তখনই উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। বাংলাদেশে ঠিক এমনটাই ঘটেছে।'
আওয়ামী লীগের শাসনকে দায়ী করা
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'জামায়াতের বর্তমান উত্থান সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের কারণে হয়েছে। তাদের দমন-পীড়নমূলক শাসন, বিরোধী দলগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করতে না দেওয়া এবং তাদের উদ্যোগগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার নীতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।' মির্জা ফখরুলের মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো শক্তি সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়।
জনগণের সমর্থন ও ভবিষ্যত আশা
বিএনপি নেতা দাবি করেন যে, ইতোমধ্যে জনগণ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, 'বিএনপি ইতিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জনগণ আবারও সুষ্ঠু, সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে সব অপপ্রবণতাকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।' তার এই মন্তব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে, বিরোধী দলগুলোর অবস্থান এবং উগ্রবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে চলমান আলোচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
