৩৭ বছর পর ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়, ডা. আব্দুস সালাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির ৩৭ বছর পর বিজয়, ডা. সালাম জয়ী

৩৭ বছর পর ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়

দীর্ঘ ৩৭ বছর পর ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনে বিএনপি জয় লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং ‘মিনি গোপালগঞ্জ’ নামে আলোচিত এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।

ভোটের বিস্তারিত ফলাফল

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯ জন ভোটারের এ আসনে ডা. আব্দুস সালাম ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম পান ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট। এ ছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটসংখ্যা নিম্নরূপ:

  • জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুন নাহার বেগম: ২ হাজার ৮৭৬ ভোট
  • গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হাসান: ১ হাজার ৮৪৩ ভোট
  • এবি পার্টির নাহিদ রানা: ৪৫১ ভোট
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল ইসলাম: ৪৩৭ ভোট
  • বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী সাহাবুদ্দিন: ৩৮০ ভোট

আসনের ১০৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটগ্রহণের হার ছিল ৭৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দিক নির্দেশ করে।

ডা. আব্দুস সালামের প্রতিক্রিয়া ও পরিকল্পনা

বিজয়ের পর ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা কারও প্রতি অন্যায় করব না। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত—সবাইকে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–এর সহযোগিতা নেবেন।

আসনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে দবিরুল ইসলাম এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এই ঐতিহাসিক বিজয় বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।