বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালো বিরোধী দল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। এই বিজয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মোদি তার উষ্ণ অভিনন্দন বার্তা প্রকাশ করেছেন।
মোদির অভিনন্দন বার্তা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার পোস্টে বলেছেন, 'বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে এক বড় বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি তারেক রহমানকে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাই।' তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে এই জয় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
মোদি বাংলাদেশের আসন্ন সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত 'গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন' অব্যাহত রাখবে। এছাড়াও তিনি বলেছেন, 'আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করতে এবং আমাদের সাধারণ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে আপনার সাথে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ।'
বিএনপির ধন্যবাদ জ্ঞাপন
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই অভিনন্দন বার্তার জন্য বিএনপি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'আমরাও আমাদের দলের পক্ষ থেকে তাকে (নরেন্দ্র মোদি) ধন্যবাদ জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।'
নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
সবশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী:
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে।
- দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ইতোমধ্যেই ২০০টিরও বেশি আসনে জয়ী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
- জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' (এনসিপি) তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই নির্বাচনী ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা এবং বিএনপির প্রতিক্রিয়া দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিনিময় বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
