বিএনপি-আওয়ামী লীগ এক হয়ে আমাকে পরাজিত করতে চেষ্টা করেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াত জোটের বিজয়ী প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, তাকে পরাজিত করতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল। তবে তিনি দাবি করেন যে জনতার গণরায় এসব চক্রান্ত সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
দেবিদ্বারে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য
বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, "আমাকে পরাজিত করতে অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধ হয়েছিল; কিন্তু জনতার গণরায় এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে।"
দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের কথা
হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে কাটানোর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণ কেন্দ্রে গিয়ে আমাকে দলে দলে ভোট দিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে তরুণ সমর্থকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন যারা তার পক্ষে নির্বাচনী কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
তার মতে:
- যারা কোনোদিন রাজনীতি করে নাই, রাজনীতির কিছুই বোঝে না এমন তরুণরা তার জন্য রাস্তায় নেমেছেন
- বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে এসে নির্বাচনে তার জন্য কাজ করেছেন
- চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে এসে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করেছেন
- বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ছুটে এসেছেন
- ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে তার নির্বাচনী প্রচারণায় সহায়তা করেছেন
জনতার হাতে ক্ষমতার বার্তা
হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, "দেবিদ্বারবাসী প্রমাণ করে দিয়েছেন ক্ষমতা, ক্ষমতার হাতে নেই। ক্ষমতা হচ্ছে জনতার হাতে। জনতা সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে।" তার এই বক্তব্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জনসমর্থনের শক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে গঠিত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও জনগণের রায়ই চূড়ান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই বিজয়কে তিনি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনতার বিজয় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
