খুলনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু: ভোটকেন্দ্রে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় তদন্ত শুরু
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মহিফুজ্জামান কচির (৬২) মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সামনে সংঘটিত একটি ঘটনায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার বিবরণ ও উত্তেজনার মুহূর্ত
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে দাঁড়িপাল্লার প্রচার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং এক পর্যায়ে আলিয়া মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুর রহীম ও শিবির নেতা মাহবুবের সাথে মহিফুজ্জামান কচির ধাক্কাধাক্কি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, এই ধাক্কাধাক্কির ফলে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং তৎক্ষণাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
উপস্থিত লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একটি সূত্র দাবি করেছে যে আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের নেতা হিসেবে পরিচিত এবং তিনি ভোটার না হয়েও কেন্দ্রে প্রবেশ করলে বিএনপি নেতারা আপত্তি তোলেন, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "ওই সেন্টারে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে শুনেছি। এ সময় বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে মারা যান। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
খুলনা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ঘটনাটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও শোক প্রকাশ
খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু হাসপাতালে গিয়ে পরিদর্শন করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, "আমাদের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে আমরা হারালাম। আমরা দাবি করছি, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"
অন্যদিকে, খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, "ওই কেন্দ্রে বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচির সঙ্গে ভোটারদের সাথে মতবিরোধ হয়। ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কেউ জড়িত নয়।"
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফলের দিকে সকলের নজর রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
