শ্যামপুরে বিএনপি নেতা হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শ্যামপুরে বিএনপি নেতা হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

২২ বছর আগে রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন কলিমুল্লাহবাগ এলাকায় বিএনপি নেতা মো. নাঈম সিকদার বিন্দুকে হত্যার দায়ে ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রবিবার (৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের আদালত এই রায় ঘোষণা দেন। পাশাপাশি প্রত্যেকের ২০ হাজার অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আসামিদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা

আসামিরা হলেন— শামীম হোসেন শিকদার, শহিদুল ইসলাম ওরফে রিপন ওরফে ঠোঁটকাটা রিপন, শাহিদ ওরফে ড্রাইভার শহীদ, মো. শহিদ হোসেন ওরফে সেঞ্চু, দুলাল ওরফে কালা দুলাল ওরফে জাকির হোসেন ও মো. আমিনুল ইসলাম। ইতোমধ্যে আসামি শাহিদ ওরফে ড্রাইভার শহীদ মৃত্যুবরণ করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় মো. আমিনুল ইসলাম আদালতে হাজির ছিলেন। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামি আমিনুল ইসলামকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের বক্তব্য

সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির মো. জাহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “রায় ঘোষণার সময় আসামি আমিনুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা পলাতক। তবে এই মামলায় শাহিদ ওরফে ড্রাইভার শহীদ মৃত্যুবরণ করেছেন। আদালত রায়ে মৃত শাহিদকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।”

মামলার বিবরণ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভিকটিম মো. নাঈম সিকদার বিন্দুর সঙ্গে আসামিদের কমিশনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ দ্বন্দ্ব ও বিরোধ চলে আসছিল। আসামিরা প্রায় ভিকটিমকে হত্যা করার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর শ্যামপুর থানাধীন করিমুল্লাহবাগ বটতলার গোল্ডেন হেয়ার ড্রেসারের সামনে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আসামিরা তাকে গুলি করে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন রুনা বাদী শ্যামপুর থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া

মামলাটি তদন্ত করে ২০০৬ সালের ২১ অক্টোবর শ্যামপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আহসান হাবিব ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীকালে এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি দাখিল করলে আদালত তা মঞ্জুর করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সিআইডির উপপরিদর্শক মো. মঞ্জুরুল রহমান ভূঁইয়া ১২ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।

২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর শামীম হোসেন শিকদার, শহিদুল ইসলাম ওরফে রিপন ওরফে ঠোঁট কাটা রিপন, শহিদ ওরফে ড্রাইভার শহিদ, মো. শহিদ হোসেন ওরফে সেঞ্চু, দুলাল ওরফে কালা দুলাল ওরফে জাকির হোসেন, মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন আদালত। অপর ৬ আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। মামলাটির বিচারকালে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।