ফরিদপুরে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা ও ভাতিজা গুরুতর আহত
ফরিদপুরে বিএনপি নেতা ও ভাতিজা আহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় স্থানীয় বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা চাচা এবং তাঁর ভাতিজাকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার রূপপাত ইউনিয়নের কদমী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা

আহত ব্যক্তিরা হলেন কদমী গ্রামের বাসিন্দা মৃত কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে রহমান মোল্লা (৪৬) ও তাঁর ভাতিজা সুমন শেখ (২৭)। রহমান মোল্লা ঢাকায় ব্যবসা করেন এবং বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক। সুমন শেখ রূপপাত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

ঘটনার পটভূমি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রহমান মোল্লার সঙ্গে রূপপাত ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও একই ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ মার্চ ফিরোজ মোল্লার সমর্থক হিসেবে পরিচিত কদমী গ্রামের সজল নামের এক যুবক মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। বিএনপি নেতা রহমান মোল্লা তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছেন, এমন সন্দেহ থেকেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার বিবরণ

এর মধ্যে গত শুক্রবার রাতে রূপপাত বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে সজল মোল্লা (১৯), সজীব মোল্লা (৩০), নাজমুল শেখ (২২), রাসেল (২০), রাকিব মোল্লা (২৫) ও শিপন (২৪) অতর্কিত হামলা চালিয়ে রহমান মোল্লা ও তাঁর ভাতিজা সুমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন বলে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি।

চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রহমান ও সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রহমান মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সুমন শেখ ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া

রহমানের চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ বলেন, ফিরোজ মোল্লার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। সজলকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক লীগ নেতা ফিরোজ মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় তিনি গোপালগঞ্জে ছিলেন। পরে শুনেছেন, কিছু যুবক দুজনকে মারধর করেছেন। এতে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পুলিশি ব্যবস্থা

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালালেও হামলাকারী ব্যক্তিরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।