দলীয় রাজনীতি, সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম (নয়ন)। শনিবার (১৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
সমাজের একটি শ্রেণী অন্যের সাফল্য সহ্য করতে পারে না
পোস্টে যুবদল নেতা লেখেন, সমাজে এমন একটি শ্রেণী রয়েছে যারা অন্যের সাফল্য সহ্য করতে পারে না এবং অন্যের উত্থানে ঈর্ষান্বিত হয়। এদের বেকার সমালোচক উল্লেখ করে নয়ন বলেন, একদল মানুষ সারাদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের বিচার-বিশ্লেষণ করে বেড়ায়, অথচ বাস্তবে তারা নিজেরাই অন্যদের কাছে বিরক্তিকর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ট্রায়াল
পোস্টে যুবদল নেতা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ট্রায়ালের মুখোমুখি করছে। এই গোষ্ঠীর একটি অংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দলের দুঃসময়ে তারা নিষ্ক্রিয় ছিল। একইসঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় অনেকেই ভয়ে আত্মগোপনে ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
ভালো কাজের প্রশংসা, খারাপ কাজের যৌক্তিক সমালোচনা
নয়ন বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা এবং খারাপ কাজের যৌক্তিক সমালোচনা হওয়া উচিত। তবে কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা একটি নিকৃষ্টতম কাজ যা নিকৃষ্ট চিন্তার মানুষরাই করে। এমন মানুষ বিএনপি করে এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফর
এদিকে গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর সফরে গেছেন। এদিন কাকরাইল মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আসার পর যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন প্রটোকলের গাড়ির সামনে দৌড়ে গিয়ে স্যালুট জানান এবং স্লোগান দেন। কাকরাইল মোড়ে জাতীয় সংসদ সদস্য যুবদল সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতারা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
নয়নের ব্যাখ্যা: তারেক রহমান হৃদপিণ্ডের মতো
এ বিষয়ে দলের অংশের অভিযোগ করেন, নয়ন কেন জনাব তারেক রহমানের গাড়ির পিছনে দৌড়ায়- এ প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদল নেতা বলেন, দেখুন, আমি যদি একটা শরীর হই তাহলে আমার হৃদপিণ্ড হচ্ছে- জনাব তারেক রহমান। শরীর যতই বড় হোক হৃদপিণ্ড ছাড়া শরীর অকেজো, মূল্যহীন মৃত। ফ্যাসিস্ট লীগ সরকারের সময় যখন আমার বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারে নির্দেশ আসে তখন দলের ৯৮% নেতাকর্মী আমার ফোন ধরতেন না। তখন জনাব তারেক রহমান দূরে থেকেও আমার সঙ্গে ছিলেন, আমার খোঁজ খবর দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন। তিনি না থাকলে এতদিন আমার কবরে গাছ গজিয়ে যেত।
সব প্রশ্নের জবাব দেওয়া বোকামো
এসময় অভিযোগ করে যুবদল নেতা বলেন, সবাইকে সব কথার জবাব দেওয়া একধরণের বোকামো। কিছু মানুষের প্রশ্নের উত্তর জানা থাকা সত্ত্বেও নিরুত্তর থাকা প্রয়োজন। একটা বাঁকা হাসি হেসে উড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সমস্ত উঠে থাকা তর্জনীর কাছে নিজেকে ব্যাখ্যা করতে নেই। সমস্ত ভুল ধারণা ভাঙিয়ে দিতে নেই। ভুল বুঝলে, বুঝুক। সব জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করতে নেই। আমি মানুষ, কারোর খেয়ালি প্রশ্ন পত্রের উপপাদ্য নই।



