কক্সবাজারে বিএনপি-ছাত্রদলের হামলায় নারী নিহত, অভিযোগ অস্বীকার
কক্সবাজারে বিএনপি-ছাত্রদলের হামলায় নারী নিহত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আহাজারি করছেন ছৈয়দা বেগমের স্বজনেরা। গতকাল শনিবার রাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় ছৈয়দা বেগম নামের এক নারী নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাইপালং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ছৈয়দা বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির আহমদের স্ত্রী।

ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে স্থানীয় টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয়তু শেখ হাসিনা’ লেখা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদলের কর্মী মো. জিসান দেয়াললিখনটি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মো. ইউনুস।

হামলার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেসবুকের ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করেন। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে যান তাঁর বন্ধু ও স্থানীয় এনজিওকর্মী এস এম ইমরান। তখন ইমরানকেও বেধড়ক পেটানো হয়। ইমরানের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তাঁর মা ছৈয়দা বেগম ছুটে আসেন। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর ওপরও হামলা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর অভিযোগ

নিহত ছৈয়দা বেগমের ছেলে এস এম ইমরান অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা জড়িত। বিশেষ করে বিএনপির এক নেতা তাঁর মাকে মারধর করেছেন। হামলায় তাঁর এসএসসি পরীক্ষার্থী এক বোন, স্ত্রীসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আবদুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার; ছাত্রদলের নেতা জিসান, অ্যাম্বুলেন্সচালক শামসুল আলমসহ আরও বেশ কয়েকজন অংশ নেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজন সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, তাঁরা হামলার সঙ্গে জড়িত নন, ঘটনাস্থলে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। অভিযুক্ত মিজান সিকদার ও আবদুল করিম বলেন, ‘ওই নারী মারা গেছেন অসুস্থ হয়ে। নারীর ওপর হামলা হয়েছে—এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবেন না। পরিকল্পিতভাবে আমাদের হত্যা মামলায় জড়ানোর চক্রান্ত চলছে।’

বিএনপির অবস্থান

উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে উখিয়াতে হামলার ঘটনাই ঘটেনি। ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর বাড়ি অনেক দূরে। ঘরেই অসুস্থ হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের তদন্তে হত্যার ঘটনা প্রমাণিত হলে এবং সে ঘটনায় বিএনপিরও কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের বক্তব্য

এদিকে পুলিশ এ ঘটনার পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মো. ইউনুসকে আটক করে। জানতে চাইলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজন ইউনুসকে একটি দোকানে আটকে রাখেন। পুলিশ ওই দোকান থেকে ইউনুসকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ছৈয়দা বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ছৈয়দা বেগম নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর দেহে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে অনুসন্ধান চলছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ মামলা করেনি।