নাটোরের গুরুদাসপুরে নারীসহ যুবদলের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালে আটক যুবদল নেতা রেজাউল করিমকে (৪২) নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম।
যুবদল নেতার পরিচয়
রেজাউল করিম উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি নাজিরপুর সদর ইউনিয়নে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রেজাউল করিম হামলাইকোল গ্রামে এক নারীর (৩৮) বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তারা সেখানে মাদক সেবন করছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেজাউল করিম একজন মাদক কারবারি। ওই নারীর বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসত, এতে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে এলাকাবাসী প্রথমে মোবাইল ফোনে নারীসহ যুবদল নেতার কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করেন। পরে স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে গিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে গ্রামের আরও লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী মনিরুল ইসলাম ও আল আমিন অভিযোগ করেন, ঘরের ভেতরে নারীসহ যুবদল নেতাকে মাদক সেবন করতে এবং বিছানায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদকদ্রব্য দেখতে পেয়েছি। কিন্তু পুলিশ ঘরে ঢুকে কোনো আলামত জব্দ করেনি। শুধু দুজনকে আটক করে নিয়ে গেছে। পুলিশের এমন আচরণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।
পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে ওসি মনজুরুল আলম বলেন, গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারীসহ ওই যুবদল নেতাকে আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখানো হয়েছে।
আটক নারীর পরিবারের দাবি
আটক নারীর বড় বোন রোজী বেগম বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বোন ও রেজাউলকে ফাঁসানো হয়েছে। রেজাউলের মাধ্যমে আমার বোনের কিছু স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখা ছিল। সেই টাকার লেনদেনের বিষয় ছিল।
যুবদল নেতার পরিবারের বক্তব্য
আটক যুবদল নেতার বড় ভাই ও নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হক বলেন, সক্রিয় রাজনীতি করার কারণে কিছু মানুষ আমার ভাইকে ফাঁসিয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।



