পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় হানি ট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আজাহার উদ্দিন খানকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. তাসলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অব্যাহতির কারণ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির নীতিমালা অনুযায়ী আজাহার উদ্দিন খানকে ১৩নং আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদসহ দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. তাসলিম তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। হানি ট্র্যাপের ঘটনায় জড়িত থাকায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
গ্রেফতার ও তদন্ত
এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে পটুয়াখালী শহরের বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আজাহার খান, যুবলীগ নেতা রাসেল তালুকদার ও কবির হোসেনকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলে ভুক্তভোগী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। এরপর তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হানি ট্র্যাপ সংক্রান্ত বিভিন্ন আলামত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে একজন চাকরিজীবীর কাছ থেকেও একই কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”



