বিএনপির মাহদী আমিনের দাবি, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত নেতার আটক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়
সৈয়দপুরে জামায়াত নেতার আটক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়: বিএনপি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে থাকুরগাঁও জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরের বিপুল অর্থসহ আটককে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন

বুধবার দুপুরে ঢাকার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এই বিষয়টিকে 'নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন' এবং 'নৈতিক দেউলিয়াত্ব ও অনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ' বলে বর্ণনা করেন। তিনি এটিকে একটি 'জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত দল' এর কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন।

অর্থ লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন

মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী সময়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেন রোধ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে, তখন একজন জেলা পর্যায়ের নেতা এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কী উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন তা গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এত বড় অঙ্কের অর্থ কেন পরিবহন করা হচ্ছিল? তিনি বলেন, এর প্রভাব বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।

বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়

বিএনপির এই নেতা জোর দিয়ে বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করার চেষ্টা এবং 'স্বর্গের টিকেট বিক্রি' এর দাবিগুলো সাধারণ ভোটারদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

স্বাধীনতা রক্ষার প্রতীক

নির্বাচনকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে আমিন দেশের সর্বস্তরের মানুষকে বিএনপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে যোগ দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণ এখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে কোন দলটি দেশের স্বার্থে কাজ করছে এবং কোন দলটি শুধু ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে আছে।

মাহদী আমিনের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নির্বাচনী সময়ে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, এবং এই ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।