পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, “একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি বলতে পারি, মুক্তিযুদ্ধ একদিকে আর সবকিছু আরেকদিকে। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধই। মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যত আন্দোলন হবে সবগুলো অন্যদিকে।”
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গ
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির কথা টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমরা এটাও দেখেছি, জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকারে আমাদের নবীনরা যারা ছিলেন, আমাদের ভাইরা ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও আনফরচুনেটলি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাননীয় স্পিকার, যখন আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলি, নতুন অভ্যুত্থানের কথা বলি, নতুন প্রজন্মের কথা বলি তখন আমরা এই জিনিসটা আশা করি না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রাজনীতিকে ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বড় বড় কথা বলে পলিটিক্স হয় না। দেশ ও জনগণের জন্য যদি কাজ করতে হয় তাহলে এক্সপেরিয়েন্স যেমন দরকার, সাহস যেরকম দরকার, বুদ্ধিমত্তাও সেরকম দরকার। বিএনপি এমন রাজনৈতিক দল যারা ফেসবুকে রাজনীতি করে না। তারা রাস্তায় রাস্তায় গুলি খেয়ে রাজনীতি করে। শুধু বট বাহিনী দিয়ে মানুষকে ছোট করে আজেবাজে কথা বলে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি হয় না। যদি ৭১ সালে ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়া থাকতো তাহলে হয়তো দেশ স্বাধীন হতো নাকি আমরা জানি না।”
বিএনপির নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, “বিএনপি এমন একটি দল যেই দলের নেতাকর্মীরা সেই দলের নেত্রীর মত আপোষহীন হয়ে একদিনের জন্য আইডেন্টিটি গোপন করে নাই। এই দলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের ব্যাচ লাগিয়ে শহীদ জিয়া, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার টি-শার্ট পরে গুলি খেয়েছে, জেলে গিয়েছে। তারা পথ গোপন করে অন্য দলে থেকে রাজনীতি করার চেষ্টা করে নাই।”
জুলাই সনদ ও সংস্কার
জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির সক্ষমতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপিকে বলে কোনও লাভ নাই। জুলাই সনদ মানে কী, একটা রিফর্ম, বাংলাদেশের রিফর্ম। নতুন প্রজন্মের জন্য রিফর্ম, সংস্কার। আপনি যদি ইতিহাস দেখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের একটি মাত্র দল যাদের সময়ে রিফর্ম, সংস্কার হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নতির প্রত্যেকটা বিএনপির হাত ধরে হয়েছে। এখন যেটা হচ্ছে রিফর্ম, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড, আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য কাজ, এই সবকিছুই হচ্ছে তারেক রহমান ও বিএনপির হাত দিয়ে। যেটার সুফল আপনারাও পাবেন ইনশাল্লাহ।”
নাহিদ ইসলামের প্রতিক্রিয়া
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির প্রমাণ চান। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের তো আমিও ছিলাম অল্প সমযয়ের জন্য। উনাদেরকে এটা প্রমাণ করতে হবে, জাতীয় সংসদে যেহেতু বলেছে উনাদেরকে এই প্রমাণ দিতে হবে নাহিদ ইসলামের নামে কি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কিনা। নাহিদ ইসলাম কোথায় দুর্নীতি করেছেন।”



