তৃণমূলে আরও বিদ্রোহ: লোকসভায় ২০ সাংসদ দল ছেড়েছে
তৃণমূলে আরও বিদ্রোহ: লোকসভায় ২০ সাংসদ দল ছেড়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিদ্রোহের আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় মমতাকে ছেড়ে গেলেন আরও এক সাংসদ। শনিবার ২০তম সদস্য হিসেবে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন দলের দাপুটে নেতা ও লোকসভার সাবেক সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর ফলে লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র আটটিতে। অন্যদিকে রাজ্যের বিধানসভাতেও মমতার দলের বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪ জনে গিয়ে ঠেকেছে।

ভারতের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের আসন ছিল ২৮টি; কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ নিয়ে একে একে ২০টি আসনের পতন হলো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংসদীয় দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে প্রথমে কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ায় এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। কাকলী ঘোষের নেতৃত্বে ১৯ জন সাংসদ একজোট হয়ে আগেই নতুন ব্লক বা গোষ্ঠী তৈরি করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজধানী দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহী তালিকায় স্বাক্ষর করেন। জানা গেছে, এই বিদ্রোহীরা রোববার বৈঠক করে সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সংসদে আলাদা বসার আসন চাইবেন।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও তৃণমূল বড় ধাক্কা খেয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে মাত্র ৮০টি। ২০৮টি আসনে জিতে প্রথমবারের মতো সেখানে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বড় পরাজয়ের পর মমতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দলটি বিধায়কেরা আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা এখন ৬৪। সুদীপের স্ত্রী বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এই গোষ্ঠীতে যোগ দিলে সংখ্যাটি ৬৫-তে পৌঁছাবে। এ ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা থেকেও তৃণমূলের চারজন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার মমতার বাসভবনে ডাকা বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষসহ মাত্র কয়েকজন নেতা অংশ নেন। অন্যদিকে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে শনিবার শ্রীরামপুরের বটতলায় বিজেপি নেতা-কর্মীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।