জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দলটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। প্রথমটি হলো সংস্কার, যা বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন আনবে। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার শূন্য করার মতো অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করা। তৃতীয়ত, ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা রোধ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা।
বাগেরহাটে সাংবাদিকদের সাথে কথা
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে বাগেরহাটের খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার ঘাটে সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় এনসিপির জেলা সমন্বয়ক সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সোহেল, নেতা আল আমিন খান সুমন, লাবিব আহমেদ, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আরজিন আরোবী নওরিনসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাটের উন্নয়ন ও শেখ পরিবার প্রসঙ্গ
পাটওয়ারী বলেন, বাগেরহাটে শেখ পরিবারের রাজত্ব ছিল, তারা উন্নয়নের নামে কিছুই করেনি। তিনি বাগেরহাটবাসীকে শেখ পরিবার উচ্ছেদে অভিনন্দন জানান। এনসিপি ক্ষমতায় এলে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে এবং মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্যের চর্চা হবে।
ভারতীয় ফ্যাসিবাদ ও সংস্কার প্রসঙ্গ
ভারতীয় ফ্যাসিবাদ থেকে বেরিয়ে ইসলাম ও সার্বভৌমত্বের ইস্যুতে কাজ করার কথা জানান তিনি। গণভোটে ৭৫ শতাংশ ভোট সংস্কারের পক্ষে পড়লেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে সরকারকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি সরকারকে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যথায় সরকারের পতন অনিবার্য। এ সময় চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করেন পাটওয়ারী।
মাজার জিয়ারত ও বৃক্ষরোপণ
পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারত শেষে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে যান এবং সেখানে ঘোড়াদীঘির দক্ষিণ পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে জুমার নামাজ আদায় করেন। শনিবার সবাইকে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।



