ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে নতুন জীবন পেলেন কৃষ্ণ হাজং
ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে নতুন জীবন পেলেন কৃষ্ণ হাজং

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষ্ণ হাজং দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার জানান, তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা। এই খবর শুনে আকাশ ভেঙে পড়ে কৃষ্ণ হাজংয়ের পরিবারের ওপর।

চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার

পরবর্তীতে চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি প্রায় দেড় বছর চিকিৎসা চালিয়ে যান। পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা লাভ করেন কৃষ্ণ হাজং।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সংবাদ সম্মেলন

এরই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে দুর্গাপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কৃষ্ণ হাজং ও তার পরিবার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষ্ণ হাজংয়ের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণ হাজং সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার চিকিৎসা খরচ জোগাতে সহায় সম্বল বিক্রি করে আমরা একরকম নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম। বেঁচে থাকার যুদ্ধে পুনরায় ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়া শুরু করি। দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাতে পারছিলাম না আমরা। পরবর্তীতে এই খবর পান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রায় দেড় বছর নিজ অর্থায়নে চিকিৎসা চালিয়ে আমাকে সুস্থ করে তোলেন তিনি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের আবেগঘন বক্তব্য

কৃষ্ণ হাজংয়ের মা চারুবালা হাজং কান্নায় ভেঙে পড়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল আমার ছেলে কৃষ্ণ হাজং। তার অসুস্থতায় আমরা মহাদুর্বিপাকে পড়েছিলাম। অর্থ সংকটে তার চিকিৎসা বন্ধ হবার উপক্রম ছিল। অর্থাভাবে ডায়ালাইসিস করতে না পেরে ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসছিলাম। কৃষ্ণের চিন্তায় তার স্ত্রী ও এক কন্যা এবং আমি ও তার বাবা সারাদিন কান্না করছিলাম। পরবর্তীতে আমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আমার ছেলেকে চিকিৎসা করিয়েছেন আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার তো দেওয়ার কিছু নাই, আমি যতদিন বাঁচব উনার জন্য দোয়া করে যাব।'

তিনি আরও বলেন, 'ছেলের জীবন বাঁচাতে আমি আমার শরীর থেকে একটি কিডনি দিয়েছি কৃষ্ণকে। ছেলেকে সুস্থ করতে আমি আমার জীবনও দিতে চেয়েছিলাম। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মতো জনপ্রতিনিধির নিঃস্বার্থ আর্থিক ও মানসিক সহায়তায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে আমার ছেলে ফিরে এসেছে। এর জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সেই সঙ্গে আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি।'

শিক্ষাবিদের প্রতিক্রিয়া

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, 'অসহায় কৃষ্ণ হাজংকে চিকিৎসা করিয়ে এলাকায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এর জন্য ওনাকে ধন্যবাদ জানাই। এসব মানবিক কাজ করেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে বেঁচে থাকবেন। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, আর্থিক অনুদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, অসুস্থ রোগীদের ও দৃষ্টিহীনদের চিকিৎসা করানো, আশ্রয়হীনদের জন্য ঘর বিতরণ করে সাধারণ মানুষের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন, তা আর কোনো সংসদ সদস্যই করতে পারেননি। ধন্যবাদ জানাই ডেপুটি স্পিকারকে। সেই সঙ্গে স্যালুট জানাই তার এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডকে।'