এআই বিতর্ক কাটিয়ে কমনওয়েলথ পুরস্কার জিতলেন জামির নাজির
এআই বিতর্ক কাটিয়ে কমনওয়েলথ পুরস্কার জিতলেন জামির নাজির

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গল্প লেখার অভিযোগ ওঠার পরও কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজের সামগ্রিক বিজয়ী হয়েছেন লেখক জামির নাজির। তার গল্প ‘দ্য সার্পেন্ট ইন দ্য গ্রোভ’–কে বিচারকরা “মৌলিক, কাব্যিক এবং গভীরভাবে হৃদয়স্পর্শী” বলে অভিহিত করেছেন।

অভিযোগ ও তদন্ত

গত মে মাসে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ব্লুস্কাইয়ে অনেকেই দাবি করেন, গল্পটিতে এআই-নির্ভর লেখার স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। এ নিয়ে বিতর্কের জেরে সাহিত্যপত্রিকা ‘গ্রান্টা’ কমনওয়েলথ বিজয়ীদের গল্প প্রকাশের দীর্ঘদিনের চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়।

পরে কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালায়। লেখকের খসড়া, সময়-সংবলিত নথি এবং ব্যক্তিগত নোট পর্যালোচনা করে তারা নিশ্চিত হয় যে গল্পটি লেখার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা হয়নি। ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক রাজমি ফারুক বলেন, লেখকদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তারা এ বিষয়ে সন্তুষ্ট।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লেখকের ব্যাখ্যা

একটি ভিডিও বার্তায় নাজির জানান, তার লেখায় ভি. এস. নাইপল ও ডেরেক ওয়ালকটের প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, পুরস্কারজয়ী গল্পটির ছয় থেকে সাতটি খসড়া তৈরি করেছিলেন। তিনি স্পিচ-টু-টেক্সট প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন এবং মোবাইলে একসঙ্গে কয়েকটি লাইন দেখতে পারতেন বলে প্রতিটি বাক্য যত্নসহকারে সম্পাদনা করেই এগোতেন। এ কারণেই গল্পটি অনেক বেশি পরিশীলিত হয়েছে বলে তার দাবি।

সমালোচনা অব্যাহত

তবে এই ঘোষণার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যার ব্যবহার করে গল্পটিকে শতভাগ এআই-নির্ভর বলে দাবি করেছেন। তবে এসব সফটওয়্যারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজমি ফারুক বলেন, প্রযুক্তির বিচারের ওপর নির্ভর না করে তারা লেখকদের সৃজনপ্রক্রিয়ার বাস্তব প্রমাণ যাচাই করেছেন। তার মতে, এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যার সবসময় নির্ভুল ফল দেয় না এবং এর কারণে লেখক ও সাহিত্য পুরস্কারের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।