বরিশালে পুলিশের অভিযানে পালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
বরিশালে পুলিশের অভিযানে পালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

বরিশালে পুলিশের অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে নগরের পশ্চিম কাউনিয়ায় খান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ অবস্থায় স্বজনেরা ওই নেতাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত নেতার পরিচয়

আওয়ামী লীগের মারা যাওয়া নেতার নাম রাশেদ খান মেনন (৪২)। তিনি বরিশাল নগরের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নগরের পশ্চিম কাউনিয়ার বাসিন্দা রাশেদ খান প্রয়াত প্রকৌশলী হেমায়েত উদ্দিন বাদশার ছেলে। হেমায়েত উদ্দিনও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। স্বজনরা জানান, হয়রানির ভয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

পারিবারিক অবস্থা

রাশেদ খান স্ত্রী ও দুই ছেলেসন্তান রেখে গেছেন। বড় ছেলে ইমতিয়াজ খান এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট ছেলে সায়াত ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বড় ছেলে ইমতিয়াজ খান জানায়, আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে কাউনিয়া থানার ৯ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করতে কাউনিয়ায় তাঁদের বাড়িতে আসেন। তখন সে (ইমতিয়াজ) বাড়িতে ছিল না। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁর বাবা বাসার পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দেয়াল টপকে অপরপ্রান্তে একটি ড্রেনের স্লাবের ওপর পড়ার পর সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে যান। পরে স্বজনেরা গিয়ে দেখেন তাঁর মাথা ফেটে রক্ত ঝরছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালে নেওয়া ও মৃত্যু

খবর পেয়ে ইমতিয়াজ দ্রুত বাড়িতে এসে বাবাকে একটি সিএনজিতে করে প্রথমে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমার বাবা হৃদরোগী ছিলেন। কয়েক মাস আগে তাঁর হৃদযন্ত্রে রিং বসানো হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর তিনি বাড়িতেই ছিলেন। আমার জানা মতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে রাশেদ খানের এক নিকটাত্মীয় জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে গেলে পুলিশি হয়রানি আরও বাড়বে, এ আশঙ্কায় স্বজনরা লাশের ময়নাতদন্ত করতে দেননি।

পুলিশের বক্তব্য

রাশেদ খানের মৃত্যু প্রসঙ্গে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জীব কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, রাশেদ খান দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তারের জন্য আজ রোববার বেলা পৌনে তিনটার দিকে কাউনিয়া থানার পুলিশ খান বাড়িতে যায়। বাড়ির নারীরা জানান, তিনি বাড়িতে নেই। এতে আশ্বস্ত হয়ে পুলিশ বাড়ি থেকে ফেরত আসে। এরপরে তিনি পালাতে গিয়ে ড্রেনের ওপর পড়ে গিয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর লাশ স্বজনেরা হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় কোনো অপমৃত্যু মামলা বা জিডি হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, না, এখনো এ ঘটনায় এ ধরনের কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় তথ্য

স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে খান বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাশেদ খানের স্বজন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক খান ও ফয়েজ খানকে গ্রেপ্তার করেছে। রাতে তিনি বাসায় না থাকায় গ্রেপ্তার এড়াতে পেরেছিলেন।