জামায়াতের নেতৃত্বে ১১-দলীয় ঐক্যের গণমিছিল: গণভোট রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানিসংকট নিরসনের দাবি
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানিসংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের জোরালো দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাজধানীতে গণমিছিল করেছে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ১১ দলের নেতারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ওয়াদা ভঙ্গের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন।
সমাবেশে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য
সমাবেশে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে, বিএনপি নির্বাচনের আগে এমন ওয়াদা করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর ‘জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট সরকার’ হওয়ার চেষ্টা করছে দলটি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। সংকট না থাকলে স্কুল ও সরকারি অফিসে কর্মঘণ্টা কমানো হলো কেন? হাজার হাজার মানুষ তেলের জন্য পাম্পে লম্বা লাইন দিচ্ছে কেন। এই সংকট তাঁরা (মন্ত্রীরা) দেখেন না। তাঁরা তখন দেখতে পারবেন, যখন জনরোষে পড়বেন।’
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার দুই মাস যেতে না যেতেই আবার চাঁদাবাজি শুরু হয়ে গেছে এবং সরকারি দল থেকে মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানুষকে ক্ষমতায় রাখে না। আপনাদের চেয়ে আরও বেশি আসন পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। ভুয়া নির্বাচন করে, রাতে নির্বাচন করে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে পারে নাই।...দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
বিএনপি সরকারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্কবার্তা
পরিবর্তনের ভাষা না বুঝলে সামনের আন্দোলনে বিএনপির পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত নেতা আজহার। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়া শুরু করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমাবেশে মন্তব্য করেন, বর্তমান বিএনপি সরকার গণবিরোধী খেতাব অর্জন করতে যাচ্ছে।
অন্যান্য দলের নেতাদের অংশগ্রহণ
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন:
- খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী
- বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার
- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক
- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম
- এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার
- জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। সঞ্চালক ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সমাবেশের পর বিজয়নগর থেকে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।



