রাজশাহীর বাগমারায় পলাতক যুবলীগ নেতার পুকুরে বিষ প্রয়োগ, ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এক পলাতক যুবলীগ নেতার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নুরপুর গ্রামে ওই পুকুরে রুই, কাতলাসহ কার্প জাতীয় মাছ মরে ভেসে ওঠে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে পুকুরটিতে বিষ প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা।
যুবলীগ নেতার পরিচয় ও পলায়নের ইতিহাস
ওই যুবলীগ নেতার নাম সোহেল রানা। তিনি উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশের ১২ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি পালিয়ে থাকার কারণে তার স্বজনেরা পুকুরটির দেখাশোনা করছিলেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে কোনো পাহারাদার ছিল না। এই পরিস্থিতিতে দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও নেতার প্রতিক্রিয়া
পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সোহেল রানা। অজ্ঞাত স্থান থেকে মোবাইল ফোনে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার কয়েকটি পুকুর বেদখল হয়ে যায়। বাড়ির কাছের পুকুরটি তার স্বজনেরা দেখাশোনা করে আসছেন, কিন্তু হুমকির কারণে পাহারাদার রাখা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গতকাল কারা বিষ প্রয়োগ করেছে—তা জানতে পারেননি। এ বিষয়ে থানায় মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি। স্থানীয়রা পুকুরটিতে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখেছে এবং কয়েকজন মিলে সেগুলো তুলছেন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, "আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তবে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।



