মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি: তৃণমূলই জিতবে, বিজেপি ভোট ছিনিয়ে নিতে চায়
মমতা: তৃণমূলই জিতবে, বিজেপি ভোট ছিনিয়ে নিতে চায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃঢ় ঘোষণা: তৃণমূলই জয়ী হবে, বিজেপি ভোট ছিনিয়ে নিতে চায়

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ শুক্রবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, ‘এবারও বাংলায় বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তৃণমূলই ক্ষমতায় আসছে, এটা নিশ্চিত।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি গায়ের জোরে ভোট করে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে চায়, কিন্তু বাংলার মানুষ শাসনভার তাদের হাতে তুলে দেবে না।

বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচন এলেই বিজেপি বসন্তের কোকিলের মতো আসে এবং পরে সব প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়।’ তিনি আরও যোগ করেন, বিজেপি কালোটাকা নিয়ে ঘুরছে এবং ক্ষমতা দখলের জন্য তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। তার মতে, বিজেপির মানুষের ভোটে জেতার ক্ষমতা নেই, তাই তারা ইডি, সিবিআই, আইটি—এসব এজেন্সি ব্যবহার করে ভোট করতে চায়।

আদিবাসীদের জমি লুট করার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী স্লোগান দেন, ‘যতই চালাও হামলা, এবারও জিতবে আমাদের বাংলা।’ আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের অস্ত্র বুলেট হতে পারে না, অস্ত্র হয় ব্যালট। ব্যালটের লড়াইয়ে নামো, ভোট পাবে না। তোমরা হেরে যাবে, তোমাদের হম্বিতম্বি শেষ হয়ে যাবে ৪ মে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিরোধী দলের পাল্টা বক্তব্য

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার পুরুলিয়ায় এক জনসভায় তৃণমূলের সমালোচনা করে বলেন, ‘২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়েছিলাম, এবারও তিনি আমার কাছে হারবেন।’ তিনি দাবি করেন, ভবানীপুরের মানুষ দুর্নীতিবাজ মমতাকে ভোট না দেওয়ার জন্য একজোট হয়েছে। শুভেন্দু তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন স্লোগান তোলেন—‘আমার পাড়া, তৃণমূল তাড়া’। তার অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা চুরি হচ্ছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ আজ শুক্রবার কলকাতার নিউটাউনের একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে শিল্প উধাও হয়ে গেছে এবং তা মহারাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১ হাজার ৪০০ শিল্প মহারাষ্ট্রে চলে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পপতিরা রাজ্য ছাড়ছেন। এখানে শিল্প নেই, চাকরিও নেই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামে এক নির্বাচনী জনসভায় বিজেপির সংস্কৃতির সমালোচনা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মাছ খাওয়া মানেই মোগল, আর বাংলায় কথা বলা মানেই বাংলাদেশি—বিজেপির এই বাঙালিবিরোধী সংস্কৃতিকে আমরা আর বরদাশত করব না।’

জবাবে গতকাল বৃহস্পতিবার কোচবিহারের ফলিমারিতে এক নির্বাচনী সভায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মমতাকে আসাম সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ‘আপনি আসামে আসুন, আমাদের আতিথ্য গ্রহণ করুন। আমরা কামাখ্যার মন্দিরে পাঁঠা বলি দিয়ে দুজনে একসঙ্গে সেই মাংস খাব। আপনাকে মাছ, মাংস ও ডিম দিয়ে আপ্যায়ন করব।’

নির্বাচনের তারিখ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।