জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের তীব্র সমালোচনা: জ্বালানি সংকট নেই, কিন্তু লোডশেডিং ৬-১০ ঘণ্টা
জামায়াত আমিরের সমালোচনা: জ্বালানি সংকট নেই, লোডশেডিং ৬-১০ ঘণ্টা

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের তীব্র সমালোচনা: জ্বালানি সংকট নেই, কিন্তু লোডশেডিং ৬-১০ ঘণ্টা

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘জ্বালানি সংকট নাই অথচ লোডশেডিং এখন মিনিমাম ৬ ঘণ্টা, ম্যাক্সিমাম ১০ ঘণ্টা। এটা হলো ঘোষিত। আর অঘোষিত কতটা সেটা বলা যাবে না। তো আমাদের যদি তেল মানে জ্বালানিসংকট নাই, যদি আমাদের বিদ্যুতের সংকট নাই তাইলে লোডশেডিং কেন?’ আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের অভিযোগ

শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন যে, চাঁদাবাজির রেট দিন দিন সব সেক্টরে বাড়ছে এবং অতিষ্ঠ জনগণ দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানিসংকটে পরিবহন খরচ আর বাড়তি চাঁদার চাপ খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপছে।

তিনি কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ডে দলীয়করণ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘এক বিধবা, তাঁকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তাঁর জীবনটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। একটা কেস এসেছে, বাকিটা হয়তো লজ্জায় মুখ বুজে আছে। জানি না এ রকম হয়েছে কি না, আল্লাহ ভালো জানেন। সেখানে আবার চাঁদাবাজি হচ্ছে এটাকে কেন্দ্র করে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণভোট নিয়ে প্রশ্ন

জামায়াত আমির ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা এর প্রথম রাজসাক্ষী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্বিতীয় রাজসাক্ষী উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ট্রফি যদি ওখানেই তুলে দেওয়া হয় তাহলে আর নির্বাচন থাকল কোথায়।’ তিনি ইতিহাস ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ‘পোস্টমর্টেম’ করবেন বলে জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এখন গণভোটকে অবৈধ বললেও এর প্রস্তাব তারাই দিয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ের গণভোট জায়েজ হলে সর্বশেষ গণভোট নাজায়েজ হবে কেন সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ব্যাংক রেজোল্যুশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখন সাড়ে সাত পার্সেন্ট ওই কালপ্রিটরা টাকা দিলে আবার ব্যাংকের মালিক হয়ে যাবে। কোথায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? এখন ব্যাংকের ওপর থাবা শুরু হয়েছে।’

তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ জানান এবং বলেন, স্বাধীন বিচারালয়ের আলাদা সচিবালয় করাকে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মানে বিচারকে আর স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হবে না। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশ নিয়ে তিনি দলীয় প্রভাবের অভিযোগ করেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান

শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা ভুল থেকে বেরিয়ে এসে গণভোটের গণরায়কে মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ফ্যাসিজম থেকে দেশের শাসনব্যবস্থাকে মুক্ত করার যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল, সেগুলো বিল আকারে আনতেও তিনি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।