নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপি নেতার মামলায় যুবদলের তিন নেতা গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় বিএনপি নেতার দায়ের করা মামলায় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা পর্যটক এলাকায় গ্র্যান্ড সাফা ইন হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
- এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও যুবদল নেতা মনির হোসেন (৫০ বছর)
- এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম জসিম (৪৯ বছর)
- লিয়ন মাহমুদ আকাশ (২২ বছর)
ফতুল্লা থানার ওসি মো. মাহাবুব জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুয়াকাটার একটি হোটেল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "এই গ্রেফতার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।"
ঘটনার পটভূমি
উল্লেখ্য, ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় চাঁদনী হাউজিংয়ে অবস্থিত বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট গার্মেন্টসের ঝুট দখল নিয়ে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির শেল্টারে এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহমেদ অভি গ্রুপ ও ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এতে এমরান নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র ও এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার পরের দিন ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল।
মামলার বিবরণ
এরপর মাসুদ গ্রুপের মো. হোসেন খোকা বাদী হয়ে ছেলেকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনিসহ ৩৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা দেখানো হয়েছে।
মামলায় রনি ছাড়াও উল্লেখিত অন্য আসামিরা হলেন:
- এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহম্মেদ অভি (৩০ বছর)
- আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ প্রধান (৫২ বছর)
- আব্দুস সালাম (৪০ বছর)
- আকাশ (২৮ বছর)
- সুমন মোল্লা রকেট (৪৩ বছর)
- খায়রুল কবির জসিম (৫৫ বছর)
- ইয়াসিন (২৮ বছর)
- আলী রতন (৩৮ বছর)
- মুরাদ হাসান (৩৮ বছর)
- আদনান আজিজ প্রান্ত (৩২ বছর)
- পল্লব (৪৫ বছর)
এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের তদন্ত চলছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



