ময়মনসিংহের ভালুকায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার বাবা-ছেলেকে, রাজনৈতিক বিরোধে সংঘাতের অভিযোগ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাতে জড়ানো বাবা-ছেলেকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বহিষ্কারের কারণ ও অভিযোগ
কেন্দ্রীয় বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের মধ্যে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. খোকা মিয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ (রানা)কে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন এই বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাবা-ছেলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধের পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খোকা মিয়া ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের সমর্থক ছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর ছেলে তোফায়েল আহমেদ (রানা) বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে কাজ করতেন। খোকা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সন্তান তোফায়েল, এবং প্রায় ১০ বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিএনপির দুই পক্ষের রাজনীতি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
সংঘাতের ঘটনা ও পুলিশি তদন্ত
এই বিরোধের জেরে ১২ এপ্রিল তোফায়েল আহমেদ নিজের কার্যালয় খুলে বসেন। এ সময় বাবা খোকা মিয়া নিজের লোকজন নিয়ে কার্যালয় বন্ধ করতে বললে, ছেলে তোফায়েলের বিরুদ্ধে বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় দুজন আহত হন। পুলিশ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ছয়টি তাজা গুলি ভর্তি ম্যাগাজিন, একটি তাজা গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। এই সংঘাতটি ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনীতিতে জড়িয়ে ফেলার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই বহিষ্কার বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দলটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইঙ্গিত করে। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।



