যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে মতবিনিময় সভা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে মতবিনিময় সভা

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি: বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এই সভায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয় এবং চুক্তিটিকে অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চুক্তি বাতিলের আহ্বান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত অন্যায়, অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি থেকে বিএনপি সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে ১০০–তে ১০০ নম্বর পেতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই বিপজ্জনক বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাইফুল হক, যিনি সংসদে এক প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য উদ্ধৃত করে বলেন, বিএনপির হাতে জাতীয় অর্জনের তিনটি ট্রফি রয়েছে এবং বিএনপি সরকারকে অবশ্যই তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতামত: চুক্তির নেতিবাচক প্রভাব

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সভায় মন্তব্য করেন, ‘এই চুক্তি কোনোভাবেই মুক্তবাণিজ্যের চুক্তি নয়। এটি অনুসারে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে, যা বাণিজ্যিক বৈষম্য আরও বাড়াবে। চুক্তিতে প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি এবং এটি বহাল থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না।’ তার মতে, এই ধরনের শর্ত গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থান

সাংবাদিক সোহরাব হাসান চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারী কায়দায় এই অন্যায় অসম চুক্তি করা হয়েছে, যা গোষ্ঠীগত বিশেষ স্বার্থে অধীনতামূলক। এটি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।’ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাণিজ্যচুক্তির হোতাদের বিচারের দাবি জানান এবং বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার নেই। তিনি দাবি করেন, বাণিজ্যচুক্তির নামে বাস্তবে আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। মালয়েশিয়া এ ধরনের চুক্তি বাতিল করতে পারলে আমরা পারব না কেন?’ তার বক্তব্যে চুক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ

সভায় ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী এবং আকবর খানসহ অনেকে বক্তব্য দেন। তাদের সকলেই চুক্তি বাতিলের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এই মতবিনিময় সভা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জোরদার হচ্ছে।