পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, পাহাড়সম সমস্যার ভার এবং মানুষের সীমাহীন প্রত্যাশার মাঝে যাত্রা শুরু করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরকারের পথচলা, প্রত্যাশা ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
সরকারের যাত্রা ও চ্যালেঞ্জ
মুশফিকুল ফজল আনসারী তার পোস্টে লিখেন, পাহাড়সম সমস্যার ভার এবং মানুষের সীমাহীন প্রত্যাশার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনগণের সরকার। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ প্রেক্ষাপটে এই সরকারের পথচলা মসৃণ নয়। অনেকেই আমার মতামত জানতে চান, তবে অনেক ক্ষেত্রেই মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা
এটা সত্য যে, মানুষ দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, আর এই প্রত্যাশা একেবারেই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। সেই জায়গায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তার বিনয়, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হয়েও সহজ ও সাধারণ জীবনযাপন, একাগ্রতা ও সময়ানুবর্তিতা মানুষের মধ্যে আস্থা ও আশার সঞ্চার করেছে। মানুষ এটিও প্রত্যাশা করে, মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সবার কাছে একই ধরনের সংবেদনশীলতা, দায়িত্ববোধ ও সংযত আচরণ প্রত্যাশিত।
দায়িত্বশীলতার আহ্বান
তিনি আরও লিখেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর আস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের জন্য এটি শুধু সুযোগ নয় বরং একটি বড় দায়। তাদের প্রতিটি কথা ও আচরণে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন যে, তারা এসেট, কোনোভাবেই লাইবিলিটি নন। সময় বদলেছে, মানুষের সচেতনতা ও ভাবনার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। এখন জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা ও দক্ষতার মাধ্যমেই মানুষের আস্থার জানান দিতে হবে।
গণতান্ত্রিক সহযোগিতা
আমাদের সমাজের একটি সচেতন অংশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে অভ্যস্ত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে তাদেরও মনে রাখা উচিত, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সরকার ও সংসদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। সরকারের কাজের সমালোচনা এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগী হওয়াও নাগরিক সমাজের দায়িত্বের অংশ। গণতন্ত্রে ফেরা আজকের বাংলাদেশে যেখানে আলোচনার পথ প্রশস্ত, সেখানে হুমকি-ধমকি অনাহূত।
অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য
শান্তি, স্থিতি, মানবিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এই সময়ের সবচেয়ে অগ্রাধিকার। আন্দোলনের মাঠ নয় বরং ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে পড়ার টেবিল হোক আমাদের ছেলেমেয়েদের গন্তব্য। বাংলাদেশে এসে এটি আমার দুই আনার চিন্তা।
মুশফিকুল ফজল আনসারী তার পোস্টে সরকারের প্রতি সমর্থন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর জোর দিয়েছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।



