বিবি সাওদার গ্রেফতার নিয়ে রাশেদ খানের বক্তব্য: সমালোচনা ও দায়িত্বের প্রশ্ন
ভোলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মী বিবি সাওদা ওরফে সাওদা সুমির গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন। এই ইস্যুতে কথা বলেছেন গণ অধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খানের প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খান জামায়াতের ওই নারী কর্মীর দুটি ফেসবুক পোস্টের ছবি যুক্ত করেছেন। পোস্টে রাশেদ লিখেছেন, জামায়াতের নারী কর্মী ফেসবুকে এসব পোস্ট করছিলেন। বাবার সাথে মেয়ে সিনেমা দেখতে গেছেন। কিন্তু উনিও একজন নারী হয়ে কত বড় নোংরামি প্রচার করেছেন, চিন্তা করেন। উনি কাকে মেয়ে-জামাই কল্পনা করেন? এই প্রশ্ন তুলে তিনি আরো বলেন, এই পোস্ট জাশি ও এনসিপি দেখেও না দেখার ভান করছে?
নারী মর্যাদা ও দায়িত্বের প্রশ্ন
রাশেদ খান তার পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, একজন নারীকে তো আরেকজন নারীর মর্যাদা দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এছাড়া নারী হয়ে আরেকজন নারীকে কার সাথে তুলনা করেন! এগুলোর প্রতিকার কী? তিনি সমালোচনা করুন, কিন্তু নর্তকী বানিয়ে প্রচার করবেন? এখানে তিনি বিএনপি ও জামায়াত উভয়কে গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, সুতরাং শামা ওবায়েদ আপাকে নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে তার সতর্কতা দরকার ছিল। নাকি এগুলো চলতেই থাকবে, সেটা চান?
গ্রেফতার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থার আহ্বান
রাশেদ খান আরো লিখেছেন, তার টাইমলাইনে এমন অসংখ্য ঘৃণা, মিথ্যাচার ও গুজব রয়েছে। তিনি বলেন, মনে করেন, তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। কিন্তু বাবা-মেয়েকে জড়িয়ে তিনি যে নোংরামি করেছেন, এটার প্রতিকার কী? তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতি প্রশ্ন রাখেন, জামায়াতে ইসলামী কি এসবের সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেয় বা নেবে? এর আগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এর আগেও তো আমির হামজা এমপি তার সহকর্মী নারী এমপিদের নিয়ে যা-তা মন্তব্য করলেন, জামায়াত কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? সমালোচনা করেন, কিন্তু এগুলো কী সমালোচনা?
মুক্তি ও সুরাহার দাবি
শেষে রাশেদ খান বলেন, অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীর কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হোক, কিন্তু এসব থেকে সুরাহার পথও বের করা সরকার বা বিরোধী দলের দায়িত্বও বটে। তার মতে, এই ঘটনা শুধু গ্রেফতারের প্রশ্ন নয়, বরং নারী মর্যাদা, সামাজিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা রাশেদ খানের মতামতকে সমর্থন ও সমালোচনা উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করছেন। ভোলার এই ঘটনা এখন জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



