বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জয়নুল আবদীন ফারুকের
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সংসদ নেতা (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) শপথের আগে বলেছিলেন, এ সংসদেরও ইনশাআল্লাহ মেজরিটি নিয়ে আমাদের কিছু প্ল্যান আছে।”
বিএনপির ঐতিহ্য ও সংগ্রামের কথা
জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, “জাতীয়তাবাদী দল শহীদ জিয়ার আদর্শের গড়ার একটি দল। যে দলের নেতাকে সিপাহী জনতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের দল, বেগম খালেদা জিয়ার সাহসী ভূমিকার জন্য স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, যিনি জেলে গিয়েছেন। সেই দলের নেতা ১৬ বছর যিনি বিদেশে থেকে সত্যিকার অর্থে দেশকে ভালোবেসেছেন। জুলাই আগস্টের যোদ্ধারাও আজকে সংসদে এসেছেন এবং তার কথা শুনছেন।
বিরোধী দলকে সতর্কবার্তা
বিরোধী দলের উদ্দেশে জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, “আমরা চাই না যে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার জন্য বক্তব্য একরকম রেখে ‘গুপ্ত’র কথা বলেছি। অনেক কথা বলেছি, এই কথাগুলো এখন বলে কাউকে মনে কষ্ট দিতে চাই না।” তিনি শুধু এটাই বলতে চান যে, তারা দেখেছেন এই সংসদ থেকেও বিচার মানে না এজলাসে। এই সংসদে বিনা ভোটে যারা এমপি হয়েছে তাদেরকেও দেখেছেন বিচার মানে না। জাতীয় সংসদ থেকে গিয়ে সেই সুপ্রিম কোর্টের রক্ষার নামে ময়দানে ময়লা ফেলতে দেখেছেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ
জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, “একাত্তরে স্বাধীনতার সময় ৬২’তে ক্লাস এইটের ছাত্র ছিলাম। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা, সবকিছু দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।” ১৭ বছরে এই সংসদে ছয়বার আসার সৌভাগ্য হয়েছে। তখনও দেখেছেন বিএনপিকে ভাঙতে অনেকে এই দলকে আদর্শহীন দল বলে, রাজাকার বলে, পাকিস্তানের সহচর বলে।
তিনি বলেন, “১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে কারা শান্তিবাহিনী ছিল, কারা রাজাকার ছিল, কারা বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করেছে, সেই বিষয়গুলো আমি উল্লেখ করে কারও মনোকষ্ট দিতে চাই না।” তিনি শুধু মনে করিয়ে দিতে চান জুলাই আগস্ট তাদের মাথার মনি। যারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তাদেরও আত্মত্যাগ আছে, তাই তাদেরকে বিভ্রান্ত করবেন না।



